Hurricane Melissa: ২৯৫ কিমি বেগের মৃত্যুঝড়! জামাইকায় ধ্বংসের নাম ‘মেলিসা’

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে (Caribbean Islands) তাণ্ডব চালিয়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে ভয়াবহ হ্যারিকেন ‘মেলিসা’ (Hurricane Melissa)। ঘণ্টায় প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার বেগে (Wind Speed) বয়ে যাওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone) জামাইকা (Jamaica), হাইতি (Haiti) ও কিউবার (Cuba) বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু ও বহু নিখোঁজের খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে এই বিপর্যয়ের চেয়েও বিজ্ঞানীদের বেশি ভাবাচ্ছে ঝড়টির আচরণ— কারণ ‘মেলিসা’ ঘূর্ণিঝড়ের চরিত্র বদলের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: Howrah division: রেলের রক্ষণাবেক্ষণেই থমকে ট্রেন চলাচল, হাওড়া ডিভিশনে বাতিল একাধিক লোকাল

‘মেলিসা’কে বলা হচ্ছে ‘ক্যাটেগরি ৫ হ্যারিকেন’ (Category 5 Hurricane)— যা ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ ধাপ। ঘণ্টায় ২৫২ কিমি বা তার বেশি বেগে হাওয়া বইলে সেটিকে এই শ্রেণিতে ফেলা হয়। এমন শক্তিশালী ঝড়ে পাকা বাড়িও ধ্বংস হয়ে যায়। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এত প্রবল ঘূর্ণিঝড় এর আগে দেখা যায়নি। বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রে থাকা অবস্থায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ‘মেলিসা’ দুর্বল অবস্থা থেকে ভয়ংকর শক্তিশালী হয়ে ওঠে— একে বলা হয় ‘র‌্যাপিড ইনটেন্সিফিকেশন’ (Rapid Intensification)।

গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change) এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) এই দ্রুত ঘনীভবনের মূল কারণ। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ (Sea Surface Temperature) ঝড়কে অতিরিক্ত শক্তি দেয়। জামাইকার উপকূল সংলগ্ন সাগরে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় এক ডিগ্রি বেশি— যা ঝড়টিকে শক্তিশালী করে তোলে। সমুদ্র যত গরম হচ্ছে, বাতাসে আর্দ্রতাও তত বাড়ছে (Humidity Increase), ফলে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ দ্রুত তৈরি হচ্ছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

তবে ‘মেলিসা’র আরেক বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে— তার গতি ছিল তুলনামূলক ধীর (Slow-Moving Hurricane)। ফলে আগাম সতর্কতা পাওয়ার পর জামাইকার বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের গতি কমছে (Cyclone Movement Slowdown), ফলে ঝড়গুলি দীর্ঘ সময় স্থলভাগে অবস্থান করছে এবং প্রবল বৃষ্টি (Heavy Rainfall) ঘটাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ‘দানব ঝড়’ (Superstorm) আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজন আরও উন্নত প্রযুক্তি (Advanced Forecasting Technology) ও নিখুঁত পূর্বাভাস ব্যবস্থা (Accurate Prediction System)। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র বা ‘Eye of the Storm’-এর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণই হতে পারে প্রাণহানি রোধের একমাত্র উপায়। জলবায়ু বদলাচ্ছে, তাই প্রকৃতির এই অশুভ সংকেতকে অবহেলা করলে বিপদ আরও গভীর হবে।