Guru Nanak Dev Ji : পানাগড়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পালিত গুরু নানকের ৫৫৬তম জন্ম জয়ন্তী

জেলা

নিউজ পোল ব্যুরো: শিখ ধর্মের (Sikh Religion) অন্যতম গুরু ও প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক দেবজির (Guru Nanak Dev Ji) ৫৫৬ তম জন্ম জয়ন্তী (Birth Anniversary) উপলক্ষে রবিবার বীরভূমের পানাগড় বাজারে অনুষ্ঠিত হল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা (Procession)। সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে ভরপুর ছিল গোটা পানাগড় এলাকা। নানা ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষ একত্রিত হয়ে অংশ নেন এই শোভাযাত্রায়, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির (Communal Harmony) এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। এদিনের শোভাযাত্রা শুরু হয় পানাগড় গুরুদ্বারা (Gurudwara) প্রাঙ্গণ থেকে। পরপর শতাধিক শিখ ভক্ত (Sikh Devotees) ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, ধর্মীয় পতাকা (Nishan Sahib) হাতে এবং ‘ওয়াহেগুরু’ (Waheguru) ধ্বনি দিতে দিতে যাত্রা করেন। শোভাযাত্রাটি পানাগড় বাজারের প্রয়াগপুর মোড় ও রণডিহা মোড় পরিক্রমা করে ফের গুরুদ্বারায় এসে শেষ হয়। সারাটা পথ জুড়ে বাজতে থাকে শিখ ধর্মীয় সংগীত (Kirtan), আর তার সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে বাজার এলাকা।

আরও পড়ুন : High Blood Pressure : উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁচা নুন এড়িয়ে রান্নায় সীমিত পরিমাণ নুন ব্যবহার করুন

শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কাঁকসা থানার (Kanksa Police Station) পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security Arrangement)। পুরাতন জাতীয় সড়কে (Old National Highway) যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এছাড়াও পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা গোটা বাজার এলাকায় নজরদারি চালান, যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। গুরুদ্বারার প্রবন্ধক কমিটির (Gurudwara Management Committee) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর গুরু নানক দেবজির জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শোভাযাত্রা শেষে গুরুদ্বারার ভেতরে শুরু হয় ‘লঙ্গর’ (Langar) — শিখ ধর্মের সেই অনন্য প্রথা যেখানে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসে বিনামূল্যে খাবার গ্রহণ করেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের (Interfaith) মানুষও অংশ নেন লঙ্গরে ও প্রসাদ (Prasad) বিতরণে। এতে মিলেমিশে যায় ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার বার্তা। গত সাত দিন ধরে চলছে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান (Religious Ceremonies), পাঠ, কীর্তন ও প্রার্থনা সভা (Prayer Session)। আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে মূল অনুষ্ঠান (Main Celebration), যেখানে আসবেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। গুরু নানকের শিক্ষা সমতা, মানবতা ও পরোপকারের বার্তা এই উৎসবের মাধ্যমে আবারও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল সকলকে, যে ধর্মের মূল ভিত্তি হচ্ছে ভালোবাসা ও সহানুভূতি (Love and Compassion)।