নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনায় এবার কার্যত পূর্ণচ্ছেদ টানল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। অবশেষে প্রকাশ্যে এল অযোগ্য গ্রুপ ‘সি’ ও গ্রুপ ‘ডি’ প্রার্থীদের নামের তালিকা। সংখ্যাটা রীতিমতো চমকপ্রদ ৩ হাজার ৫১২ জন! অর্থাৎ, এতজন প্রার্থী বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিলেন বলে জানাল কমিশন নিজেই।
আরও পড়ুন: S Jaishankar: ভূমিকম্প বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পাশে ভারত, জয়শংকরের কূটনৈতিক বার্তা মানবিকতার সুরে
২০১৬ সালের বাতিল প্যানেল (SSC) থেকে শুরু হয়েছিল এই বিতর্কের সূচনা। যোগ্য প্রার্থীদের দাবি ছিল, অযোগ্যদের নাম প্রকাশ করতে হবে এবং প্রকৃত যোগ্যদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ দেয়। কিন্তু একাধিক ধমক সত্ত্বেও দীর্ঘদিন নীরব ছিল এসএসসি (SSC)। অবশেষে আদালতের নির্দেশ মেনে শনিবার রাতেই তালিকা প্রকাশ করে কমিশন।
রাত ৭টা ৫৫ মিনিট নাগাদ প্রকাশিত হয় অযোগ্যদের নাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাত ৮টা ৪ মিনিট থেকে শুরু হয় গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’-র নতুন আবেদনের প্রক্রিয়া। জানা গেছে, এই ৩৫১২ জনের মধ্যে ২৫৯১ জন জাল ওএমআর শিট (OMR Sheet) ও ভুয়ো সুপারিশপত্রের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন। আরও ৯২১ জন ছিলেন ‘র্যাঙ্ক জাম্প’ ও ‘আউট অব প্যানেল’ অনিয়মে জড়িত।
তবে সবচেয়ে বড়ো রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটেছে তৃণমূলের (TMC) অন্দরে। প্রকাশিত তালিকা ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, কোচবিহার, বাঁকুড়া, শিলিগুড়ি থেকে দুর্গাপুর রাজ্যের নানা প্রান্তে শাসক দলের নেতাদের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠ বা পদাধিকারীদের নামই উঠে এসেছে। কারও বাবা জেলা শ্রমিক নেতা, কারও দাদা তৃণমূল যুব সভাপতি, আবার কেউ বা বুথ সভাপতির ভাই!
বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, “যা আশঙ্কা করেছিলাম, তাই ঘটেছে নিয়োগ দুর্নীতি তৃণমূলের ছত্রছায়াতেই হয়েছে।” অন্যদিকে শাসক শিবির বলছে, “এসএসসি স্বাধীন সংস্থা, তার সিদ্ধান্তে সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ নেই।” তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রকাশ্যে আসা তালিকা শুধু দুর্নীতির প্রমাণই নয়, রাজ্যের প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতারও এক কঠিন পরীক্ষা। কারণ, এখন গোটা রাজ্যের নজর একটাই প্রশ্নে, এই অযোগ্যদের সরিয়ে, সত্যিই কি সুযোগ পাবে যোগ্যরা?
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
