নিউজ পোল ব্যুরো: যত দিন যাচ্ছে, ততই সাধারণ মানুষের নিত্যসঙ্গী মোবাইল ফোন হয়ে উঠছে এক সম্ভাব্য বিপজ্জনক যন্ত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ স্মার্টফোন যেন একেকটি সময় বোমা। যদিও মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপ্ল-এর তৈরি আইফোন আপাতত এই বিপদের তালিকায় নেই, তবে বাকিদের ক্ষেত্রেই আশঙ্কা প্রবল। কারণ, আজকের প্রায় সব স্মার্টফোনেই ব্যবহৃত হয় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি , যা নিজে থেকেই আগুন ধরে যাওয়ার ঝুঁকি বহন করে।
আরও পড়ুন:SSC Result 2025: শুক্রবার প্রকাশ এসএসসি ফল! আগে একাদশ-দ্বাদশ, পরে নবম-দশমের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু
এই ব্যাটারিগুলিতে শক্তির ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি হওয়ায়, যদি কখনও শর্ট সার্কিট হয় বা ব্যাটারির উপর অতিরিক্ত চাপ বা তাপ সৃষ্টি হয়, তাহলে শুরু হয় এক ভয়াবহ প্রক্রিয়া, থার্মাল রানওয়ে। এই অবস্থায় ব্যাটারির ভিতরে থাকা প্রতিটি সেল গরম হতে থাকে, এবং একসময় ডিভাইসটি নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে। শুধু তাই নয়, স্মার্টফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে এর ভিতরে থাকা ইলেক্ট্রোলাইট (Electrolyte)থেকে ধোঁয়া তৈরি হয়, যা বাইরে বেরোতে না পেরে ফোনের ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

গ্যাজেট বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ফোন ব্যবহারের ফলে এর ভিতরের রাসায়নিক গঠন নষ্ট হয়ে যায়, ফলে ব্যাটারি ফুলে ওঠে এবং শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। এ কারণেই পুরনো ফোনে বিস্ফোরণের ঘটনা বেশি দেখা যায়। এর পাশাপাশি গ্রাহকদের ভুল ব্যবহারের জন্যও বাড়ছে বিপদ। অনেকেই সস্তা, অনামি সংস্থার পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহার করেন, যেখানে থাকে না কোনও নিরাপত্তা সার্কিট বা থার্মাল প্রোটেকশন সিস্টেম। আবার এই ধরনের সস্তা ব্যাটারিতে সার্টিফায়েড সেল না থাকায় তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিস্ফোরণের আশঙ্কা বাড়ায়। তবে সব সময় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য আগুন লাগে না। কখনও কখনও ফোনের ভিতরের রাসায়নিক উপাদান নষ্ট হয়ে গেলে সেখান থেকে ধোঁয়া নির্গত হতে থাকে, যাতে থাকে বিষাক্ত ফ্লোরিন গ্যাস । এই গ্যাস মানুষের শ্বাসযন্ত্র ও ত্বকের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
অতএব, প্রযুক্তির যুগে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সচেতনতা জরুরি। স্মার্টফোনের ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হলে সেটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। সস্তা চার্জার বা অননুমোদিত পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কারণ, অজান্তেই যে যন্ত্র আমাদের জীবন সহজ করছে, সেটিই একদিন হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুফাঁদ।
