Solar Eclipse: কবে হবে সূর্যগ্রহণ? “প্রাচীন ক্যালেন্ডারের মহা রহস্য উদ্ঘাটিত চমকে বিজ্ঞানীরা”

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ প্রায় ৩,৫০০ বছর ধরে ছড়িয়ে থাকা মায়া সভ্যতার মানুষরা আকাশ-গণনায় ছিলেন অবিশ্বাস্য দক্ষ। বছরের কোন সময়ে (Solar Eclipse) হবে, কখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে দাঁড়াবে—এ সব বিস্তারিত হিসাব করে ফেলতে পারতেন তারা। আধুনিক বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিন ধরে ভাবিয়েছে, কী ভাবে তখনকার মানুষরা উন্নত যন্ত্রপাতি ছাড়াই এমন নিখুঁত পূর্বাভাস দিতেন।

মায়া সমাজে জ্যোতির্বিদ্যা বা (Astronomy) শুধু বিজ্ঞান ছিল না, ছিল ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানের সাথে গভীরভাবে জড়িত। সূর্যগ্রহণ হলে তারা মনে করতেন, সূর্যদেবতা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাই গ্রহণের সময়ে বিশেষ আচার, নৈবেদ্য ও রক্ত উৎসর্গেরও প্রচলন ছিল। সমাজের শ্রেষ্ঠ পুরোহিত এবং শাসকরাই ঠিক করতেন কোন গ্রহণে কী ধরনের আচার পালন হবে।মায়াদের ঐতিহ্যের সবচেয়ে মূল্যবান নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭৮ পৃষ্ঠার প্রাচীন পুঁথি। ইউরোপীয়দের আক্রমণের সময় বহু নথি নষ্ট হলেও, এই কোডেক্সে টিকে আছে মায়াদের জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান, ঋতুচক্র, চিকিৎসা, এবং চাঁদের হিসাব। গবেষকরা দেখেছেন, সূর্যগ্রহণের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য মায়ারা তৈরি করেছিলেন একটি সূক্ষ্ম গণনা-ছক, যা আজকের (Prediction System)-এর সঙ্গে তুলনা করলে বিস্ময় জাগে।

আরও পড়ুন:Richa Ghosh Stadium : রিচার নামে শিলিগুড়িতে নতুন স্টেডিয়াম, ঘোষণা মুখ্যামন্ত্রীর

আগে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন, মায়াদের গণনা ১ থেকে ৪০৫ চন্দ্রমাস পর্যন্ত গিয়ে আবার নতুন করে শুরু হত। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় আমেরিকার দু’জন গবেষক—ভাষাবিদ জন জাস্টসন এবং প্রত্নতত্ত্ববিদ জাস্টিন লোরি—নতুন সত্য সামনে আনেন। তাঁদের মতে, মায়ারা ৪০৫ মাস অবধি অপেক্ষা করতেন না। বরং অনুযায়ী ৩৫৮তম মাসেই নতুন গণনা-ছক শুরু করতেন। এর ফলে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর সরলরেখায় অবস্থানের বিচ্যুতি থাকত মাত্র ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট! কখনও কখনও আরও সূক্ষ্ম গণনার জন্য তারা ২২৩তম চন্দ্রমাসেই নতুন ছক শুরু করতেন। তখন বিচ্যুতি থাকত ১০ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মতো। কিন্তু পরবর্তী গণনায় সেই বিচ্যুতি ধীরে ধীরে পুষিয়ে নেওয়া হত। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১১৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা আমেরিকা থেকে দৃশ্যমান প্রায় প্রতিটি সূর্যগ্রহণের সময় নির্ভুলভাবে মেলাতে পেরেছিল মায়ারা। প্রায় ১৩৪ বছরে তাদের পূর্বাভাসে সর্বোচ্চ ভুল ছিল মাত্র ৫১ মিনিট!

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

আজকের বিজ্ঞানরাও স্বীকার করেন—যন্ত্র ছাড়াই আকাশের নক্ষত্র ও গ্রহণ-চক্রের এমন নিখুঁত বোঝাপড়া সত্যিই বিস্ময়কর। মায়ারা শুধু দেখে বা আন্দাজে নয়, বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্ম গণনার মাধ্যমেই মহাকাশ বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।