Mobile Addiction: স্ক্রিনে ডুবে যাচ্ছে শৈশব! ডিজিটাল ডিটক্সেই মিলবে মুক্তি

প্রযুক্তি স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: দিন-রাত চোখের সামনে একই দৃশ্য— মোবাইল বা ট্যাবের স্ক্রিনের নীল আলো। আজকের যুগে পড়াশোনা, নোট বা প্রজেক্ট— সব কিছুর জন্যই ভরসা ইন্টারনেট। এর ফলে শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সকলের মধ্যেই বাড়ছে mobile addiction -এর প্রভাব। খাতা-কলম বা ব্ল্যাকবোর্ড থেকে পড়ার অভ্যাস কমে গিয়ে জায়গা নিচ্ছে রিল দেখা, সোশ্যাল মিডিয়াস স্ক্রোলিং ও অনলাইন ক্লাস। শারীরিক ও মানসিক— দু’ধরনের সমস্যাই বাড়ছে।

আরও পড়ুন:Delhi blast: দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত, সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন হাতে থাকলে কোন কাজ করা হচ্ছে, তা সারাক্ষণ নজর রাখা সম্ভব নয় অভিভাবকের পক্ষে। কিন্তু কেন এই আসক্তি বাড়ছে? ডোপামিন হরমোন-এর কারণ বলে মনে করেন মনোবিদেরা। আমেরিকান সাইকিয়াট্রিস্ট জর্জ এল. এনগেলের ‘বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল মডেল’ জানায়, যে কাজে ডোপামিন, সেরোটোনিন, এন্ডোরফিন** বেড়ে যায়, মানুষ বারবার সেই কাজই করতে চায়। ফলে অনলাইন গেমিং, ক্রমাগত স্ক্রোলিং, লাইক-শেয়ার গোনা— সবই মানুষের মনে তাত্ক্ষণিক আনন্দ দেয়। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকার ফলে কমছে শারীরিক পরিশ্রম, বাড়ছে ওজন, কমছে ঘুম— পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মনের অস্থিরতা। বেথুন কলেজের মনোবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নীলাঞ্জনা বাগচী জানান, লাগাতার স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে cognitive development বাধাগ্রস্ত হয়। নতুন কিছু ভাবার বা সৃষ্টিশীল হওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। অর্ধসত্য ইন্টারনেট-জীবনই বাস্তব বলে মনে হতে থাকে, তৈরি হয় একাকিত্ব।মনোবিদ অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় মনে করেন, অনেক সময় ভয়, হতাশা বা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে শিশুরা মোবাইলকে আশ্রয় করে— অর্থাৎ ভুলে থাকার প্রয়োজনেই তৈরি হচ্ছে মোবাইল নির্ভরতা।

কীভাবে সম্ভব ডিজিটাল ডিটক্স?

•অভিভাবকদেরই আগে নিজের আচরণ বদলাতে হবে। সন্তান যা দেখে তাই অনুসরণ করে।

• দিনে অন্তত একবেলা ফোন ছাড়া সবাই এক সঙ্গে খেতে বসলে শিশুর মনে নিরাপত্তা তৈরি হয়।

• বাইরে খেলাধুলা— ক্রিকেট, সাঁতার, টেনিস বা দাবা— ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

• সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সূর্যোদয় দেখা, কিছুক্ষণ যোগাসন, রুটিন লিখে রাখা উপকারী।

• কাজ শেষ হওয়ার পরেই বিনোদন হিসেবে ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

মনোবিদদের কথায়, ইন্টারনেট ছাড়া পড়াশোনা করা সম্ভব নয়, তবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতেই হবে। ফোন ব্যবহার আমরা নিয়ন্ত্রণ করব— ফোন আমাদের নয়।