নিউজ পোল ব্যুরো: বর্ষার পরেই আবহাওয়ার অস্থিরতায় সর্দি–কাশি ও ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে দিল্লিতে। তবে এ বার পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ শহরে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের সাব–টাইপ H³N² (H³N² Virus Symptoms)। চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আউটডোরে ভিড় উপচে পড়ছে। আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু, কিশোর, প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকরাও। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই ফের মনে করাচ্ছে করোনা আতঙ্কের দিনগুলিকে।
আরও পড়ুন:Raj-Subhashree: রাজ শুভশ্রীর ছেলে ইউভান পা দিল পাঁচে, রাজকীয় জন্মদিনে নজর কাড়ল ‘ছোট্ট রাজপুত্র’
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিবছরই এই সময়ে ‘সিজনাল ফ্লু’ (Seasional Flu) দেখা দেয়। তবে এ বছর H³N² (H³N² Virus Symptoms) এর সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, আর উপসর্গও দীর্ঘস্থায়ী। বিশেষ করে শুকনো কাশির দাপটে রোগীরা দীর্ঘদিন ভুগছেন। অনেকের ক্ষেত্রে কাশি সপ্তাহ পেরিয়েও যায়নি, এমনকি মাস অবধি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথার সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
এই ভাইরাসের (H³N² Virus Symptoms) প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর, সাধারণত ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত, সঙ্গে কাঁপুনি। জ্বরের সঙ্গে শরীরে ব্যথা, হাত পায়ের যন্ত্রণা এবং মাথাব্যথা রোগীদের কাবু করছে। গলায় খুসখুসে ভাব ও ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, অবসাদ ও দুর্বলতা একে আরও জটিল করে তুলছে। কিছু ক্ষেত্রে ডায়েরিয়া ও বমির মতো উপসর্গও দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যেহেতু এটি একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ, তাই অ্যান্টিবায়োটিক এখানে কার্যকর নয়। বরং অযথা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাই বাড়ে। বর্তমানে চিকিৎসা হচ্ছে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভর করে। জ্বর কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামলই যথেষ্ট। প্রচুর বিশ্রাম, শরীরকে হাইড্রেট (Hydride) রাখতে জল, ফলের রস ও স্যুপ (Soup) খাওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যাঁদের ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা হৃদ্রোগের মতো কো–মর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অ্যান্টি–ভাইরাল ওষুধ যেমন ওসেলটামিভির দেওয়া হতে পারে।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ঘরোয়া টোটকার সাহায্যও কিছুটা কার্যকর। কাশির উপশমে নুন–জল দিয়ে গার্গল, আদা–মধু মিশ্রিত গরম চা কিংবা স্টিম নেওয়া উপকার দিতে পারে। একই সঙ্গে সাবধানতা অবলম্বন করাও অত্যন্ত জরুরি। করোনার সময় শেখা নিয়মগুলো—মাস্ক ব্যবহার, ভিড় এড়িয়ে চলা, বারবার হাত ধোয়া—এখনও প্রাসঙ্গিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।দিল্লির পাশাপাশি দেশের অন্যত্রও H³N² (H³N² Virus Symptoms) এর সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই আপাতত সতর্কতাই ভরসা, যাতে করোনা আতঙ্কের মতো পরিস্থিতি আর না ফিরে আসে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
