নিউজ পোল ব্যুরো: পাঁচ বছরের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। অবশেষে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) ফিরতে চলেছে টেস্ট ক্রিকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম লড়াই ইডেনে। শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। কিন্তু তার আগেই ইডেনের বাইশ গজের চেহারা নিয়ে জোর আলোচনা ভারতীয় শিবির নিয়ে।শেষবার ২০১৯ সালে এখানে হয়েছিল ঐতিহাসিক ডে-নাইট টেস্ট। সেই সময়ের থেকে এখন মাটির চরিত্রে এসেছে অনেক পরিবর্তন। তাছাড়া গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) আর ইডেনের পিচ বিতর্ক বহু পুরোনো। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক এবং মেন্টর হিসেবেও তিনি ইডেনের পিচ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। গম্ভীর এখন ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে ইডেনে এসেছেন। এবারও সেই পিচ নিয়ে অখুশি গম্ভীর।
সূত্রের খবর, টিম ইন্ডিয়ার কোচিং স্টাফ ও অধিনায়ক গত কয়েকদিন ধরে উইকেট পর্যবেক্ষণ করছেন। পিচের উপরে দেখা গিয়েছে শুকনো বাদামী রঙের মাটি, সঙ্গে সামান্য ঘাসের ছাপ। বলা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মূল স্ট্রিপে জল দেওয়া হয়নি, যা ব্যাটারদের জন্য ভালো খবর নয়। অন্যদিকে, বাকি অংশে চলছে নিয়মিত জল দেওয়া। বোঝাই যাচ্ছে, কিউরেটর ইচ্ছাকৃতভাবেই পিচকে শুকনো রাখছেন, যাতে ম্যাচ যত এগোবে, স্পিনারদের সহায়তা বাড়ে।

তবে এই পিচ নিয়ে খুব একটা খুশি নন ভারতীয় দলের হেড কোচ গম্ভীর ও অধিনায়ক গিল (Shubhman Gill)। তাঁরা চেয়েছিলেন যাতে আরও বেশি স্পিন সহায়ক উইকেট থাকুক। সেকথা মেনে নিয়েছেন কিরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়।
বুধবার ক্রিকেটারেরা মাঠে নামার আগেই দেখা যায় প্রধান কোচ গম্ভীর নেমে পড়েছেন। তিনি সরাসরি পিচের কাছে যান। সঙ্গে ছিলেন ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক, বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল ও সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে। কিছু ক্ষণ পর অধিনায়ক শুভমন গিল যোগ দেন তাঁদের সঙ্গে।
পিচের পাশে দাঁড়িয়ে সুজনের সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলেন গম্ভীরেরা। তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি। পরে এই বিষয়ে কেউ কিছু বলেননি। তবে শুভমনকে বেশ উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায়। মনে হচ্ছিল, পিচ দেখে এখনও সন্তুষ্ট হতে পারছে না ভারতীয় দল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
একসময় ইডেন ছিল স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে মাটির গঠন বদলে তা হয়ে ওঠে বাউন্স ও পেস সহায়ক। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কেকেআর বারবার ঘূর্ণির সহায়ক উইকেট চাইলেও, তা মেলেনি। এবার আবার পুরনো ইডেন কি ফিরে আসছে, সেই প্রশ্নই ঘুরছে ক্রিকেট মহলে।
ভারতীয় দল কাগজে-কলমে স্পিন-বান্ধব ট্র্যাকে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট কখনও কখনও উল্টো ফল দেয়—প্রতিপক্ষ দলের স্পিনাররাও তখন সমানভাবে বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। তাই ইডেনের এই উইকেট ভারতের জন্য সহায়ক হবে নাকি দু’দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ—সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠে বল গড়ানোর পরই।
