Partha Chatterjee: পার্থকে ‘ঢাল’ নাকি ‘অস্ত্র’? নরম সুরে পার্থকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নতুন লড়াই

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee ) নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নয়া আলোচনার জন্ম হয়েছে। একসময় যার গ্রেফতারির পর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিল বিজেপি (BJP), জামিনের পরে সেই একই দলের নেতাদের সুরে মিলছে বিস্ময়কর নরম ভাব।

মঙ্গলবার নাকতলার বাড়িতে ফেরেন পার্থ। বাড়ি ফেরার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেন তিনি। প্রথমত— নিজের দলের সাসপেনশন বা নিলম্বন সংক্রান্ত তথ্য জানতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee – TMC Chief) চিঠি পাঠিয়েছেন। দ্বিতীয়ত— নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমের বাসিন্দাদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন। তৃতীয়ত— সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই। এই সক্রিয়তা তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।

আরও পড়ুন:Mamata Banerjee: মুখ্যমন্ত্রীর চেহারা নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, শান্তনুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ

অন্যদিকে, বিজেপির প্রতিক্রিয়া আরও বেশি প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিধানসভায় এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar – BJP Leader) পার্থকে নিয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেননি। তিনি বলেন, “পার্থবাবুর বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে, হৃদয়ের ব্যথা থেকেই ওসব কথা বলেছেন। একা তিনি সব কিছু করেছেন— এমনটা হতে পারে না।” তিনি আরও দাবি করেন, নিয়োগ দুর্নীতির তালিকা নাকি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এক মহিলা সদস্যের কাছ থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছিল। তবে কারও নাম প্রকাশ করতে চাননি। কারণ, তাঁর কথায়, “প্রমাণ দেখাতে পারব না।’’ একই সঙ্গে পার্থ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) বাড়ি থেকে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা, ‘কালিঘাট কাকু’-র ফোনকল— সবই স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। কিন্তু তবুও সুকান্তের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে— “পার্থ একা নন, আরও অনেকে জড়িত।” পার্থ বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে দরজা খোলা কি না— এই প্রশ্নে সুকান্ত তিনবারই উত্তর এড়িয়ে যান।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্য বিজেপির অন্য কোনও নেতা পার্থকে নিয়ে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেননি। এ থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা— পার্থকে সামনে রেখে বেহালা পশ্চিমে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে চাইছে বিজেপি। হয়তো দুর্নীতির অভিযোগে পার্থকে ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল নিচ্ছে বিজেপি।