Gallbladder Stone : সদ্য মা, তবুও গলব্লাডারে স্টোন! সন্তান জন্মের পর হরমোন পরিবর্তনেই বিপদ, কী বলছেন চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: সদ্য মা হয়েছেন, মাসখানেকও হয়নি সন্তান জন্মের। হঠাৎ একদিন পেটে তীব্র ব্যথা (abdominal pain), সঙ্গে বমি (vomiting)। চিকিৎসকের পরামর্শে করা হলো আল্ট্রাসাউন্ড (USG), আর তাতেই ধরা পড়ল গলব্লাডারে স্টোন (Gallbladder Stone) — অর্থাৎ পিত্তথলিতে পাথর। অথচ গর্ভাবস্থার সময় থেকেই নতুন মা খুবই সচেতন ছিলেন। তেল-ঝাল-মশলা একেবারে বাদ দিয়ে হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেন। সন্তান জন্মের পরও পরিবারের সবার যত্নে নিয়ম করে সঠিক খাবারই পাচ্ছিলেন। তবুও এমন সমস্যা কেন হলো? চিকিৎসকদের মতে, এর মূল কারণ হরমোনের পরিবর্তন (hormonal changes)। সন্তান জন্মের পর মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন (Estrogen) এবং প্রজেস্টেরন (Progesterone) হরমোনের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে। এর প্রভাবে গলব্লাডারের কার্যক্ষমতা (Gallbladder function) কমে যায়। ফলে পিত্তথলিতে থাকা তরল পিত্ত জমে ঘন হতে থাকে এবং তার থেকেই তৈরি হয় পাথর।

আরও পড়ুন : Kolkata Metro : চালকবিহীন মেট্রোর পথে কলকাতা! ব্লু লাইনে আসছে অত্যাধুনিক CBTC প্রযুক্তি

এর সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন মায়েদের খাবার সংক্রান্ত অভ্যাস। সন্তান জন্মের পর অনেক সময় পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা ঘি, দুধ, ফ্যাটযুক্ত খাবার (fat-rich foods) বেশি খাওয়াতে শুরু করেন শরীরচর্চার নামে। কিন্তু এই অতিরিক্ত ফ্যাট হজমে বাধা সৃষ্টি করে এবং গলব্লাডারে পাথর (Gallstones) তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। আবার অন্যদিকে অনেক মা দ্রুত মেদ ঝরাতে (weight loss) গিয়ে হঠাৎ করে অনেক খাবারই বাদ দিয়ে দেন — বিশেষ করে শাকসব্জি, ডাল, ও ফাইবারযুক্ত (fiber-rich) খাবার। অথচ এই খাবারগুলো গলব্লাডারের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেগুলি বাদ দিলে পিত্তের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

পুষ্টিবিদদের (nutritionists) মতে, সন্তান জন্মের পর নতুন মায়েদের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস (balanced diet) বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যেন ঠিকভাবে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত জল (water intake) খাওয়া দরকার, দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম (light exercise) করলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। অতিরিক্ত ফ্যাট ও তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সন্তান প্রসবের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (health check-up) করা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসায় সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করলে Gallbladder Stone-এর মতো জটিল সমস্যা থেকেও রেহাই মিলবে সহজেই।