Silent Stroke: বলতে বলতে ভুলে যাচ্ছেন? এটি কি ‘Silent Stroke’-এর সংকেত?

স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: অনেক সময় শরীরে কোনও বড় সমস্যা শুরু হলেও আমরা তার লক্ষণ টের পাই না। বিশেষ করে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের ঘাটতির কারণে যে ‘Silent Stroke (Silent Stroke)’ হতে পারে, সেটি অনেকেই জানেন না। সাধারণ ব্রেন স্ট্রোক ) হলে মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক দিক অসাড় হয়ে পড়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। কিন্তু সাইলেন্ট স্ট্রোকে এই চেনা লক্ষণগুলো দেখা যায় না। তাই বেশির ভাগ সময়ই রোগী বুঝতে পারেন না, মস্তিষ্কে কী ভয়ানক ক্ষতি হতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন:Primary TET Exam: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বড় বদল! বাড়ল TET নম্বর

সম্প্রতি একটি রিসার্চে জানা গিয়েছে , অনেক মানুষের মস্তিষ্কে বারবার ক্ষুদ্র রক্তবাহী নালীতে বাধা তৈরি হয়। ধমনীর ভেতর রক্ত জমাট বাঁধলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ অক্সিজেন পায় না এবং স্নায়ুকোষ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। সমস্যা হল—এ সবই ঘটে নিঃশব্দে। কোনও বড় শারীরিক পরিবর্তন না হওয়ায় মানুষ সাধারণ ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ভেবে ভুল করেন।

সাইলেন্ট স্ট্রোকের লক্ষণ: 

এই স্ট্রোক শরীর অচল করে দেয় না, বরং মনের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। স্মৃতিশক্তি বারবার ভুল হতে থাকে, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হয়। অনেক সময় হঠাৎ বিভ্রান্ত বোধ হতে পারে বা সহজ সিদ্ধান্ত নিতেও সময় লাগে। অনেকের ক্ষেত্রে আচমকা মেজাজ পরিবর্তন বা ঘন ঘন মুড সুইং দেখা যায়। এইসব কারণে অনেকেই মনে করেন এটা Dementia -র লক্ষণ। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন—এটিও সাইলেন্ট স্ট্রোক-এর ইঙ্গিত হতে পারে। কখনও দেখা যায় হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য রাখতে পারছেন না, মাথা হালকা লাগছে, ঘুম হচ্ছে না, অকারণে ক্লান্তি অনুভব করছেন। এগুলিও স্ট্রোকের সতর্ক সংকেত।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

•যাদের উচ্চ ব্লাড প্রেসার

• ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই

• রক্তে করেস্টেরল অনিয়মিত

• অতিরিক্ত ওজন

• ধূমপান বা অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস রয়েছে,

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

কি করবেন?

1. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

2. নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।

3. দিনে অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন।

4. পর্যাপ্ত জল পান করুন।

5. ধূমপান ও অ্যালকোহল বাদ দিন। বাইরের চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

স্ট্রোক যদি চিহ্ন না-ও দেয়, ক্ষতি কিন্তু চলতেই থাকে। তাই শরীর নয়, মন— দুইয়ের ছোট পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দিন। সময়মতো পরীক্ষা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনই পারে এই বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে।