নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose) ও তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) মধ্যে বৈরিতা যে ক্রমশ সংঘাতে রূপ নিচ্ছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। তৃণমূল (TMC) সাংসদ সরাসরি অভিযোগ তুলে হেয়ার স্ট্রিট থানায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কল্যাণের (Kalyan Banerjee) অভিযোগ রাজ্যপাল বারংবার “উসকানিমূলক, বিতর্ক তৈরি করার মতো এবং প্রশাসনিক শালীনতার পরিপন্থী” মন্তব্য করছেন, যা রাজ্যের সাংবিধানিক মর্যাদার পরিপন্থী।
আরও পড়ুন: Sovandeb Chatterjee: তদন্তে গাফিলতি! রহড়া থানার পুলিশকে আস্থাহানির অভিযোগ শোভনদেবের
এমন এক সময়েই অভিযোগ উঠল, যখন ঠিক আগের দিন রাজভবন থেকে কল্যাণের (Kalyan Banerjee) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগে বহু ধারায় মামলা রুজু হয় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে। পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা না করে পরদিনই রাজ্যপালকেই অভিযোগপত্র জমা দিলেন কল্যাণ। তার দাবি, বাংলার নির্বাচন ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যপাল ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক মন্তব্য করছেন, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোতে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। সংবাদমাধ্যমের সামনে রাজ্যপালের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে চায়, তাও অভিযোগে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাজভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপালের দেওয়া মন্তব্যকে বিশেষভাবে করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বক্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজ্যপাল নির্বাচন কমিশনের পরিধি অতিক্রম করে ভোটের নিয়ম-কানুন নিয়ে নিজের মত চাপিয়ে দিতে চাইছেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন পরিচালনায় নাক গলানো আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এবং তা নিয়ে পুলিশকে যথাযথভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান।
কল্যাণ শুধু রাজ্যপালের বিরুদ্ধেই নন, রাজভবনের উপসচিব সুমন পালের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন। তার আবেদন রাজভবন থেকে ঠিক কোন নির্দেশে কোন মন্তব্য হচ্ছে, তা পুলিশ খতিয়ে দেখুক। এই সমস্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু রাজ্যপালের করা এসআইআর (Systematic Identification of Repeat offenders) সম্পর্কিত মন্তব্য। তিনি দাবি করেছিলেন, বিহারের মতো বাংলাতেও এই পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য ও প্রয়োজনীয়, এবং তা নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়াবে। এই মন্তব্য ঘিরেই তৃণমূল শিবিরের ক্ষোভ উথলে ওঠে। কল্যাণ পালটা সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বিজেপির (BJP) অপরাধীদের রাজভবনে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগই আগে খতিয়ে দেখা উচিত রাজ্যপালের। তিনি অপদার্থ রাজ্যপাল, বিজেপির চাকরবাকর!” এই কড়া মন্তব্যের জবাবে রাজভবন জানান, সাংসদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজভবনে বোমা-গুলি খোঁজার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
