নিউজ পোল ব্যুরো: অবশেষে বহু প্রতীক্ষার পর সম্পূর্ণ হলো অযোধ্যার (Ayodhya) রামমন্দির নির্মাণের কাজ। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরেই বিবাহ পঞ্চমীর পুণ্য তিথিতে ধ্বজারোহণের মাধ্যমে রামলালার (Ram Lalla) স্থায়ী ধর্মীয় আবাসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। মঙ্গলবার সকালে এই বিশেষ আচার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। উদ্বোধন উপলক্ষে অযোধ্যায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শহর জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অন্তত ৬,৯৭০ জন নিরাপত্তাকর্মী। নিরাপত্তার স্তর আরও দৃঢ় করতে ATS, NSG-র স্নাইপার টিম, সাইবার নিরাপত্তা শাখা এবং টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে স্ট্যান্ডবাইতে। অ্যান্টি-ড্রোন টেকনোলজি, স্মার্ট ভিজ্যুয়াল মনিটরিং সিস্টেম, স্পেশাল ইউনিট এবং বম্ব স্কোয়াডের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : IIT Kharagpur : বিশেষ ডাকটিকিট উন্মোচন করল IIT খড়্গপুর, হিউস্টনে আউটরিচ সেন্টার গঠনে বড় পদক্ষেপ
ধ্বজারোহণ উপলক্ষে অযোধ্যায় (Ayodhya) আসেন প্রায় ৮ হাজার অতিথি। সেই সংখ্যাকে মাথায় রেখে প্রতিটি প্রবেশপথ, চত্বরে এবং মন্দির এলাকা জুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। মন্দির এলাকাকে ভাগ করা হয়েছে বিভিন্ন সিকিউরিটি জোনে, যেখানে নিরাপত্তাকর্মীরা থাকবেন নিরবচ্ছিন্ন টহলে। মঙ্গলবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)একসঙ্গে অযোধ্যার রামমন্দিরে পৌঁছন। দু’জনেই প্রথমে রামলালার আরতি করেন। এরপর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শুরু হয় ধ্বজারোহণ আচার। নিচ থেকে ধীরে ধীরে উপরে উঠে মন্দিরের সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করে ন্যায়ের ঐতিহ্যবাহী ধ্বজা। পুরো প্রক্রিয়ার সময় আবেগাপ্লুত চোখে ধ্বজার দিকে তাকিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। ধ্বজা উঠে গেলে করজোড়ে অভিবাদন জানান তিনি এবং ফুল অর্পণ করেন মোহন ভাগবতের সঙ্গে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
গত বছরের ২২ জানুয়ারি রামলালার (Ram Lalla) প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তবে তখন মন্দির নির্মাণ অসম্পূর্ণ ছিল। প্রায় দু’বছরের শ্রম ও দক্ষতার সমন্বয়ে এবার পুরোপুরি দাঁড়িয়ে গেল রামলালার মহামন্দির। তাই অনেক পুরোহিতই এই ধ্বজারোহণকে ‘দ্বিতীয় প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ হিসেবে দেখছেন। কারণ এই আচার সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের ৪৪টি দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে পূজা ও ধর্মীয় আচারের জন্য। অযোধ্যার (Ayodhya) এই মহাউৎসব তাই শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে রইল সকলের মনে।
