নিউজ পোল ব্যুরো:বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া (SIR process West Bengal) শুরু হওয়ার পর থেকেই জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের চাহিদা হঠাৎ বেড়েছে। এসআইআর হিয়ারিংয়ের নোটিস নাগরিকদের হাতে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই বহু পরিবার বুঝতে পারছেন সরকারি শংসাপত্র কতটা প্রয়োজনীয় হতে চলেছে। এতদিন যাঁরা হাসপাতালের নথিই ব্যবহার করেছেন নানা প্রয়োজনে, কিংবা মৃত আত্মীয়ের সরকারি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেননি, তাঁরাই এখন পুরসভার কাউন্টারে ভিড় করছেন। নথি সংশোধন, নতুন আবেদন, পুরোনো নথি পুনরায় সংগ্রহ—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে চাপ। এই পরিস্থিতি সামলাতেই কলকাতা পুরসভা ঘোষণা করেছে বিশেষ উদ্যোগ।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/30/voter-list-revision-deadline-extended-by-election-commission/
সোমবার থেকেই শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে খুলছে বিশেষ ক্যাম্প। পুরসভা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সেখানে আবেদন, নথি যাচাই, সংশোধন, জমা ও সংগ্রহ—সব কিছু এক জায়গায় সমাধান করা হবে। বাড়তি ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত কর্মীও মোতায়েন করা হচ্ছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, এসআইআর-এর (SIR process West Bengal) কাজ এগোতে জন্মের নথি অত্যন্ত জরুরি। যাতে নাগরিকরা সমস্যায় না পড়েন, তাই পর্যাপ্ত কর্মী রেখে ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। ক্যাম্পে গিয়ে নাগরিকরা আবেদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কাগজপত্র জমা দেওয়া ও ডেলিভারির মতো সব বিষয়ে সরাসরি দিকনির্দেশ পাবেন। পুরসভা আগেই অনুমান করছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে নথির চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে, এসআইআর আতঙ্ক তৈরি করে রাজ্য সরকার নাকি আইপ্যাককে কাজে লাগিয়ে ভুয়ো নথি সরবরাহের পরিবেশ তৈরি করছে। সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তোলেন, সরকারই ভুয়ো নথির কারবার চালাচ্ছে। অবশ্য রাজ্যের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও কলকাতা পুরসভার দাবি, বিশেষ ক্যাম্পের লক্ষ্য কেবল নাগরিকদের সহায়তা করা, যাতে নথির অভাবে কেউ সমস্যায় না পড়েন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এদিকে একই সময়ে রাজ্যের সব পুরসভায় বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনও আসছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অধীন স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি সমস্ত পুরসভার কর্মীদের অনলাইন হাজিরা বাধ্যতামূলক করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য তৈরি হচ্ছে একটি বিশেষ অ্যাপ, যেখানে কর্মী ও আধিকারিকদের তথ্য আপলোডের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কলকাতা ও বিধাননগর সহ কয়েকটি পুরসভায় অনলাইন হাজিরার ব্যবস্থা থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো গোটা রাজ্যে একই প্রক্রিয়া চালু হতে চলেছে।
সব মিলিয়ে এসআইআর সংক্রান্ত নথির চাপ, নাগরিকদের উদ্বেগ, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই কলকাতা পুরসভা বিশেষ ক্যাম্প খুলে নথি সংক্রান্ত পরিষেবা সহজ করতে উদ্যোগী হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—যেন কারও নথি না থাকার কারণে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি না হয়, এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত পরিষেবা পান।
