নিউজ পোল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Voter List Revision) ঘিরে চলা ধারাবাহিক বিতর্ক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে অবশেষে পিছিয়ে গেল ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত সময়সীমা। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, বাংলা-সহ মোট ১২টি রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন বদলে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আগে যেখানে ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের কথা ছিল, সেখানে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা প্রকাশ হবে ১৬ ডিসেম্বর। এই সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকা বা ফাইনাল রোল প্রকাশও পিছিয়ে গিয়ে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:Weather Update : দক্ষিণবঙ্গে কবে নামবে পারদ? ডিসেম্বরের শুরুতেই শীতের বড় আপডেট দিল আবহাওয়া দফতর
রবিবার কমিশনের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এনুমারেশন (Enumeration) অর্থাৎ ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহ ও ডিজিটাল আপলোডের সময়সীমা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ পাবে ড্রাফট রোল। এরপর ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ। পাশাপাশি, ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে শুনানির সময়সীমা। তার পরেই ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে প্রাথমিক অনুমান—মাঠ পর্যায়ে কাজ করা ব্লক লেভেল অফিসারদের (BLO) উপর অতিরিক্ত চাপই মূল কারণ। সম্প্রতি কাজের চাপে একাধিক BLO-র মৃত্যু ও আত্মহত্যার ঘটনা, প্রতিবাদ, এবং পর্যাপ্ত সময়সীমার দাবির বিষয়টি কমিশনের কাছে গুরুতর হয়ে ওঠে। তাছাড়া BLO App ঠিকমতো কাজ না করায় তথ্য আপলোড (BLO App Issue) করতে নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কর্মীরা। তাদের মতে, এত কম সময়ে এক একজন BLO-র পক্ষে হাজার-হাজার ভোটারের তথ্য আপলোড করা বাস্তবিকই কঠিন হয়ে পড়ছিল। অতিরিক্ত সময় তাদের চাপ কিছুটা কমাবে বলেই মত অনেকের।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
প্রশাসনের উচ্চস্তরের কিছু আধিকারিক আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এত স্বল্প সময়ের মধ্যে SIR Process সম্পূর্ণ করা হলে ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা বাড়বে। সেই যুক্তিও কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তারা। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এসআইআর-এর সময়সীমা নিয়ে আপত্তি তুলছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, অল্প সময়ের মধ্যে সংশোধনী প্রক্রিয়া শেষ করতে গেলে বিপুল পরিমাণ ভুল থেকে যাবে। তিনি কমিশনকে সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে চিঠিও দেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বারবার সতর্ক করা হয়েছিল—একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লেও আন্দোলনে নামবে দল।
