নিউজ পোল ব্যুরো: নাক ডাকার (Snoring) সমস্যা অনেকের কাছেই নিত্যদিনের যন্ত্রণা। রাতে ঘুমোতে গেলেই নাসিকা গর্জনের (Snoring) শব্দে শুধু নিজের নয়, পাশের মানুষেরও শান্ত ঘুম ভেঙে যায়। দিনের পর দিন এই সমস্যা চলতে থাকলে দাম্পত্য জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক পরিবেশেও অশান্তি তৈরি হতে পারে। অনেকেই ভাবেন, ওষুধ খেলেই বুঝি রাতারাতি নাক ডাকা (Snoring) বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবটা হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যার সমাধান এক দিনে হয় না। বরং কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস ও সহজ ব্যায়াম নিয়মিত করতে পারলে ধীরে ধীরে নাক ডাকার (Snoring) প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন : SIR: ভোটার লিস্ট রিভিশনে বিতর্ক জারি, অবশেষে সময় বাড়াল নির্বাচন কমিশন
নাক ডাকার (Snoring) পিছনে একাধিক শারীরিক কারণ কাজ করে। অতিরিক্ত ওজন হলে গলার আশপাশের পেশিতে চর্বি জমে শ্বাসনালির পথ সংকীর্ণ হয়ে যায়, ফলে ঘুমের সময় বাতাস চলাচলে বাধা পড়ে। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও দেহের বিভিন্ন পেশি ঢিলে হয়ে যায়, যা নাক ডাকার (Snoring) ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সবথেকে গুরুতর কারণ হলো স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea)। এই সমস্যায় ঘুমের মধ্যেই বারবার শ্বাস আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জেরে প্রচণ্ড নাক ডাকা (Snoring), হঠাৎ শ্বাসরোধ এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা যায়। নাকের ভিতরে পলিপ থাকলেও শ্বাসের পথ আংশিক বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি যাদের দীর্ঘদিনের অ্যালার্জি বা ক্রনিক সাইনুসাইটিসের (Sinusitis) সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও নাক ডাকার (Snoring) প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই ধরনের সমস্যায় মুখের জিভ, গলা ও চোয়ালের পেশি শক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। জিভের স্লাইড করার মাধ্যমে জিভের পেশি সক্রিয় হয় এবং গলার ভেতরের অংশে জমে থাকা ঢিলেভাব কমে। নিয়মিত জিভ স্ট্রেচ করলে শ্বাসনালির চারপাশের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে, ফলে বাতাস চলাচল সহজ হয়। জিভ দিয়ে মূর্ধায় চাপ দেওয়ার মতো ব্যায়াম করলে গলার উপরের পেশিগুলি শক্ত হয়। ঘাড় ও চোয়ালের পেশি টানটান রাখতে মাথা পেছনে হেলিয়ে বিশেষ ভঙ্গিতে ঢোঁক গেলার অভ্যাসও দারুণ উপকারী। এর পাশাপাশি মুখ বন্ধ রেখে জিভ ঘোরানোর অনুশীলন গলার ভেতরের ছোট ছোট পেশিকে সক্রিয় করে তোলে। এই ব্যায়ামগুলো যদি নিয়ম করে প্রতিদিন করা যায়, তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নাক ডাকার তীব্রতা অনেকটাই কমতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের স্লিপ অ্যাপনিয়া বা পলিপের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ব্যায়াম নিয়ম মেনে করার সঙ্গে সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ত্যাগ ও সঠিক ঘুমের ভঙ্গিও নাক ডাকার সমস্যা কমাতে বড় ভূমিকা নেয়।
