নিউজ পোল ব্যুরো: শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে অবশেষে স্বস্তির হাওয়া বইল প্রাথমিকের (TET) ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণদের মধ্যে। প্রায় এক দশক ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বুধবার হাই কোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, এই নিয়োগ আর বাতিল হচ্ছে না। ফলে ২০১৪ সালের টেটের (TET) ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকরা আপাতত নিশ্চিন্তে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে ‘দুর্নীতি’ সংক্রান্ত তদন্ত চলবে কেন্দ্রীয় সংস্থার অধীনে।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের বেঞ্চ প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Ganguly) দেওয়া সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে স্পষ্ট জানায়, নিয়োগে কর্তৃপক্ষের ভুল বা অপকর্মের দায় কর্মরত শিক্ষকরা বহন করতে পারেন না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নয় বছর পর চাকরি বাতিল হলে বহু পরিবার চরম সমস্যার মুখে পড়বে, যা ন্যায়সঙ্গত নয়।
রায় ঘোষণার পর সরকারি পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী বলেন, “যারা বছর ধরে পড়াচ্ছেন তারা কোনও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অংশ নন। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে নির্দোষদের চাকরি বাতিল করা অযৌক্তিক ছিল।” ডিভিশন বেঞ্চের রায় প্রকাশের পরই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) X–এ লেখেন, “সত্যের জয় হল। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সুরক্ষিত থাকল।”
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের টেটের (TET) ভিত্তিতে ২০১৬ সাল থেকে প্রাথমিক নিয়োগ শুরু হয়। মোট প্রায় ৪২,৫০০ নিয়োগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের মে মাসে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং রাজ্যকে তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পর্ষদ ডিভিশন বেঞ্চে যায়। প্রথম ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেয়। পরে রাজ্য ও পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টে যায় এই যুক্তিতে যে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়নি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে মামলাটি ফের নতুন ডিভিশন বেঞ্চে আসে এবং সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বুধবার রায়দান করা হয়।
একদিকে চাকরি বহাল থাকায় স্বস্তি পেলেন শিক্ষকরা, অন্যদিকে অভিযোগে যাদের নাম জড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত যে চলবে তাও স্পষ্ট করে দিল আদালত। বরাবরের মতোই শিক্ষা–নিয়োগে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন আবারও সামনে এল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
