Kolkata: নিরামিষের বদলে চিকেন প্যাটিস বিতর্ক! জামিন পেয়েই মামলাকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ ধৃত ৩ জনের

কলকাতা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে (Kolkata) গীতাপাঠের অনুষ্ঠানের (Kolkata) দিন এক প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শাসক-বিরোধী কেউই চুপ থাকেননি। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করেন এবং বলেন, ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তার মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোড়ন তোলে।

আরও পড়ুন: Umar Khalid: সাময়িক মুক্তি! বোনের বিয়েতে উপস্থিত থাকার জন্য ১৪ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন উমর খালিদ

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই ব্যাঙ্কশাল আদালত তিন অভিযুক্তকে জামিন মঞ্জুর করে। ব্যক্তিগত এক হাজার টাকার বন্ডে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে আসার পর ধৃতরা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উলটে বিক্রেতার দিকেই আঙুল তোলেন। তাদের দাবি, ওই বিক্রেতা নাকি আমিষ প্যাটিসকে নিরামিষ বলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি (Kolkata) করছিলেন। এই অভিযোগ জানিয়ে তারা ময়দান থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন বলে জানান।

অভিযুক্তদের আইনজীবীর বক্তব্য, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার দাবি, প্রথমে প্যাটিসের প্রকৃতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ক্রেতারা যখন শুনতে পান নিরামিষ নামে আমিষ প্যাটিস বিক্রি হচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ছড়ায়। সেই ক্ষোভ থেকেই কিছুটা তর্কাতর্কি ও পরে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঘটনায় কোনওভাবেই ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রশ্ন নেই; এটি পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝির ফল।

তবে সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই যুক্তিকে একেবারেই মানতে রাজি নন। তার মতে, তিনজন অভিযুক্ত ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে এমন অভিযোগ তুলে বিক্রেতাকে অপদস্থ করেছিলেন। তিনি আদালতে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এই অভিযোগ জামিনযোগ্য হওয়া উচিত নয়। তার দাবি, অভিযুক্তদের জামিন দিলে ভুল বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত শেষ পর্যন্ত তিন অভিযুক্তকেই জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই রায় সামনে আসার পরও রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা কমেনি। বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে শাসকদলের দাবি ইস্যুটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বড় করে দেখানো হচ্ছে। ময়দান থেকে আদালত পর্যন্ত এই ঘটনা ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজ্য রাজনীতিকে আরও এক দফা উত্তপ্ত করেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole