নিউজ পোল ব্যুরো: বারবার মোবাইল রিচার্জের খরচ বৃদ্ধি এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল—কাজ, পড়াশোনা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে বিনোদন, সবই এখন অনলাইন নির্ভর। সেই পরিস্থিতিতে রিচার্জের দাম বাড়া মানেই সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে আরও বাড়তি চাপ।
আরও পড়ুন:Mobile Network: স্পেকট্রাম দখলে টেলিকম সংস্থার সঙ্গে মুখোমুখি অ্যাপল–মেটা! শেষ পর্যন্ত জিতবে কে?
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের শুরুতেই প্রিপেইড ও পোস্টপেইড, দু’ধরনের মোবাইল রিচার্জ প্ল্যানের দাম এক দফা বাড়তে পারে। রিলায়েন্স জিও (Jio), ভারতী এয়ারটেল (Airtel) এবং ভোডাফোন-আইডিয়া (Vi)-এর মতো দেশের শীর্ষ টেলিকম সংস্থাগুলি এই মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক অপারেটর তাদের কম দামের রিচার্জ প্ল্যান বন্ধ করে দিয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের বিকল্প আরও সীমিত করছে।

খবর অনুযায়ী, আসন্ন বছরে মোবাইল রিচার্জের দাম ১৬ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অর্থাৎ বর্তমানে যদি কোনও অপারেটরের আনলিমিটেড কলিং ও দৈনিক ১.৫ জিবি ডেটা-সহ সর্বনিম্ন রিচার্জ প্ল্যানের দাম প্রায় ৩০০ টাকা হয়ে থাকে, তাহলে ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে সেই একই প্ল্যানের জন্য গ্রাহকদের গুনতে হতে পারে প্রায় ৩৬০ টাকা। মাসে একবার রিচার্জ হলেও বছরে হিসেব করলে এই অতিরিক্ত খরচের অঙ্ক বেশ বড় হয়ে দাঁড়াবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এর আগেও একাধিকবার টেলিকম ট্যারিফ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে মোবাইল রিচার্জের দাম ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তার পরে ২০২১ সালে আবারও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত রিচার্জের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতার পর ২০২৬ সালে ফের নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো উন্নয়ন, 5G পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং অপারেশনাল খরচ বৃদ্ধির কারণেই টেলিকম সংস্থাগুলি ট্যারিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। তাই নতুন বছরের আগে থেকেই অনেকেই মোবাইল খরচ কমানোর উপায় খুঁজতে শুরু করেছেন।
