Robots: বালির কণার থেকেও ছোট বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রোবট তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা! চিকিৎসা গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে ক্ষুদ্রতম মাইক্রোরোবট

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: খালি চোখে এই রোবটকে দেখা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। আকারে এটি একটি বালির দানার থেকেও ছোট। দৈর্ঘ্যে মাত্র প্রায় ০.০৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থে ০.২ থেকে ০.৩ মিলিমিটার। অথচ এত ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও এই রোবটের ক্ষমতা রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। বিশ্বের ক্ষুদ্রতম এই রোবট শুধু সাঁতার কাটতেই পারে না, বরং পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতাও রাখে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এটি এক যুগান্তকারী আবিষ্কার বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:Food Delivery : সুইগি–জোম্যাটোতে খাবার মিলবে, তবে অ্যাপে নেই আপনার প্রিয় রেস্তরাঁ! অনলাইন ফুড ডেলিভারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আমেরিকার পেনসিলভ্যানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও মিচিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক যৌথভাবে এই অনন্য মাইক্রোরোবটটি তৈরি করেছেন। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় বাস্তব রূপ পেয়েছে এই প্রকল্প। গবেষকদের মতে, এই ক্ষুদ্র যন্ত্রমানব একেকটি জীবন্ত কোষের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। ফলে ভবিষ্যতে রোগ নির্ণয়, কোষগত সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি বিপ্লব আনতে পারে। চিকিৎসাক্ষেত্রের পাশাপাশি উৎপাদন শিল্পেও এই রোবটের ব্যবহার সম্ভাবনাময়। অতিক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ তৈরি, সূক্ষ্ম গঠন পরীক্ষা কিংবা জটিল মাইক্রো-অ্যাসেম্বলি কাজেও এটি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। গবেষক মার্ক মিসকিন জানিয়েছেন, তাঁদের তৈরি এই স্বয়ংক্রিয় রোবটটি সাধারণ রোবটের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার গুণ ছোট। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে প্রোগ্রামযোগ্য রোবটের ধারণায় এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

এই রোবটগুলি একা নয়, দলগতভাবেও কাজ করতে পারে। জটিল বিন্যাসে চলাফেরা করা কিংবা মাছের ঝাঁকের মতো সমন্বিত গতিতে একসঙ্গে সাঁতার কাটার ক্ষমতা রয়েছে এদের। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এদের কোনো চলমান যান্ত্রিক অংশ নেই। ফলে এগুলি অত্যন্ত টেকসই এবং দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্ষম থাকে। মাইক্রোপাইপেটের সাহায্যে সহজেই স্থানান্তরযোগ্য এই রোবটগুলি টানা কয়েক মাস পানিতে সক্রিয়ভাবে সাঁতার কাটতে পারে। বিজ্ঞান যত এগিয়েছে, যন্ত্রের আকার ততই ছোট হয়েছে, মিলিমিটার আকারের কম্পিউটার থেকে শুরু করে এবার কণার মতো রোবট। আলোকরশ্মির স্পন্দনে পরিচালিত এই ক্ষুদ্র রোবটগুলির প্রত্যেকটির নিজস্ব প্রোগ্রামিং রয়েছে। ফলে একসঙ্গে কাজ করলেও প্রতিটি রোবট আলাদা দায়িত্ব পালন করতে পারে। নিঃসন্দেহে, এই আবিষ্কার কল্পবিজ্ঞানকেও বাস্তবের কাছে হার মানাচ্ছে।