Food Delivery : সুইগি–জোম্যাটোতে খাবার মিলবে, তবে অ্যাপে নেই আপনার প্রিয় রেস্তরাঁ! অনলাইন ফুড ডেলিভারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

কলকাতা প্রযুক্তি

নিউজ পোল ব্যুরো: দেশের খাদ্য-অর্থনীতিতে ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলির প্রভাব আজ আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। গত কয়েক বছরে অনলাইন ফুড অর্ডারিংয়ের প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে, যার ফলে সুইগি ও জোম্যাটোর মতো অ্যাপের উপর নির্ভরতা যেমন বেড়েছে, তেমনই বদলেছে রেস্তরাঁ ব্যবসার গতিপথ। তবে সাম্প্রতিক একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট জানাচ্ছে, দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ রেস্তরাঁ এখন এই ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ভাবছে।

এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কমিশন সংক্রান্ত অসন্তোষ। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিটি অর্ডারের বিপরীতে অ্যাপগুলিকে যে কমিশন দিতে হয়, তা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে এই কমিশনের হার ছিল গড়ে ৯.৬ শতাংশ, সেখানে ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪.৬ শতাংশে। ফলে লাভের অঙ্ক কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ অনেক রেস্তরাঁ মালিকের। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের রেস্তরাঁগুলির ক্ষেত্রে এই কমিশনের চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। বড় রেস্তরাঁ চেনগুলির দর কষাকষির ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি হলেও ছোট আউটলেটগুলি সেই সুবিধা পাচ্ছে না। শুধু কমিশন নয়, রেস্তরাঁগুলির অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ফুড অ্যাপগুলির দুর্বল ক্রেতা পরিষেবা, অর্ডার সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান না হওয়া এবং নিয়মিত অর্ডার থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত লাভ না হওয়া। এই সব কারণ মিলিয়েই অনেক রেস্তরাঁ ফুড ডেলিভারি অ্যাপ থেকে সরে আসার কথা ভাবছে।

আরও পড়ুন:IIT Kharagpur News 2025:স্কুল স্তরেই এআই শিক্ষা, বাংলায় ভবিষ্যতের প্রযুক্তির দরজা খুলছে আইআইটি খড়্গপুর

তবে এত আপত্তি থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ রেস্তরাঁ এখনও এই অ্যাপগুলির সঙ্গেই থেকে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, প্রায় ৫৯ শতাংশ রেস্তরাঁ জানিয়েছে, ফুড অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরিষেবার ভৌগোলিক পরিসর অনেকটাই বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, ৫২.৭ শতাংশ রেস্তরাঁর দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে তারা মেনুতে নতুন নতুন পদ যোগ করতে পেরেছে। তৃতীয়ত, প্রায় ৫০.৪ শতাংশ রেস্তরাঁ বলছে, ফুড ডেলিভারি অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে তাদের গ্রাহক সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

বিশেষ করে ছোট রেস্তরাঁগুলির ক্ষেত্রে এই সুবিধাগুলি কমিশন ও অন্যান্য সমস্যার তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই নানা অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিক লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে এখনই ফুড ডেলিভারি অ্যাপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে না তারা।