নিউজ পোল ব্যুরো: চলচ্চিত্রজগত থেকে বহু আগেই নিজেকে অনেকটা সরিয়ে নিয়েছেন জয়া বচ্চন (Jaya Bachhan)। রুপোলি পর্দার বদলে গত প্রায় দুই দশক ধরে রাজনীতিই তাঁর মূল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। ২০০৪ সাল থেকে তিনি সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। অভিনয়ের তুলনায় সংসদীয় রাজনীতিতেই এখন তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে শুক্রবার সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি এমন এক রাজনৈতিক মন্তব্য করলেন, যা বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: Satadru Dutta: বাড়ির ভেতরেই ফুটবল মাঠ ও পুল! শতদ্রু দত্তের রাজকীয় অট্টালিকায় হানা দিল পুলিশ
এদিন সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জয়া বচ্চন (Jaya Bachhan) দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বাংলায় ফের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকার গঠন করবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল। তিনি বলেন, “বাংলায় আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকার নিশ্চয়ই হবে।” এই বক্তব্য তিনি একাধিকবার পুনরুক্তি করেন।
জয়া বচ্চন (Jaya Bachhan) জন্মসূত্রে বাঙালি হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক নতুন নয়। এই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তাঁর প্রতি বিশেষ সৌহার্দ্য লক্ষ্য করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বহুবার অমিতাভ বচ্চনকে ‘বাংলার জামাই’ বলে উল্লেখ করেছেন। অতীতেও জয়া বচ্চনকে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে দেখা গেছে। শুক্রবার সংসদ চত্বরে তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচিতে হাজির হয়ে তিনি কার্যত জানিয়ে দিলেন, এখনও তিনি ‘দিদি’র পাশেই আছেন।
এদিন সংসদ চত্বরে তৃণমূল সাংসদরা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম পরিবর্তন এবং বাঙালি মনীষীদের অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল হন। সেই কর্মসূচিতে জয়া বচ্চনও অংশ নেন। শুধু তাই নয়, অন্যান্য তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানেও কণ্ঠ মেলান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে প্রতিবাদের সুর। তিনি বলেন, “বাঙালি মনীষীদের অপমান করে বা জোর করে আইন পাশ করিয়ে বাংলার কণ্ঠরোধ করা যাবে না। যত বেশি অপমান করা হবে, ততই বাংলার মানুষের মনোবল আরও শক্ত হবে।”
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জয়া বচ্চন আরও বলেন, বাংলার মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই ঠিক করতে জানে। গোপালকৃষ্ণ গোখলের বিখ্যাত উক্তি, ‘হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো’ এর ভাবনা তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, দেশের বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত বা দিশা নির্ধারণে বাংলাই বহু সময় পথ দেখায়। তাঁর মতে, বাঙালির চিন্তাধারাই দেশের আগামী দিনের রূপরেখা গড়ে দেয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
