নিউজ পোল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ঘিরে মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব নিয়ে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ তুলেছে। এই প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বহু মতুয়া ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ, যার ফলে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।
এই আবহে শনিবার নদিয়ার রানাঘাটের তাহেরপুরে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা করার কথা ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তিনি সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি। পরিবর্তে দিল্লি ফিরে মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্দেশে একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বক্তব্য রাখেন। সেই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, CAA-র আওতায় মতুয়ারা ভারতের বৈধ নাগরিক এবং এই অধিকার তাঁদের সরকারই দিয়েছে। তিনি জানান, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মতুয়া ও নমশুদ্র সম্প্রদায়ের কল্যাণে আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনাও উঠে আসে। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মোদি বলেন, এই স্লোগান তাঁর উদ্দেশে নয়, বরং তৃণমূলের উচিত অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে ‘গো ব্যাক’ বলা। তাঁর সংক্ষিপ্ত অডিও ভাষণের পর সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করেন তিনি। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, মতুয়া ও নমশুদ্র সম্প্রদায় তৃণমূলের কোনও দয়ার ফলে নয়, বরং CAA-র আইনি অধিকারের ভিত্তিতেই ভারতে মাথা উঁচু করে বসবাস করছেন।
বর্তমানে মতুয়া সমাজ নিজেদের অবস্থান নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে। একদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের আশ্বাস এই দুই বিপরীত পরিস্থিতির মাঝে তাঁরা কার্যত দিশেহারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়েই বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে চাইছে। SIR প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলির ভোটের ফল কী দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
