Mohan Bhagwat in West Bengal:“বিজেপি ও আরএসএস এক নয়”, বাংলার মাটিতে সংঘকে ‘অজাতশত্রু’ আখ্যা মোহন ভাগবতের!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গ সফরে এসে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা দিলেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat in West Bengal)। রবিবার কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত ‘শতায়ু সংঘ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আরএসএস ও বিজেপিকে এক করে দেখলে ভুল হবে। সংঘের কোনও শত্রু নেই, হিন্দু সমাজের ঐক্য ও সংহতিই একমাত্র লক্ষ্য—এমনটাই দাবি সরসংঘপ্রধানের। মোহন ভাগবত বলেন, “সংঘ নিয়ে বহু ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে। অনেকেই নাম জানেন, কিন্তু সংঘের কাজ জানেন না। আরএসএস কোনও বিরোধের মনোভাব নিয়ে চলে না। শুধু হিন্দু সমাজের উন্নতির কথাই ভাবে। সংঘ বাড়লে অনেকের স্বার্থে আঘাত লাগে, কিন্তু সংঘের নিজস্ব কোনও শত্রু নেই।” তাঁর অভিযোগ, অহেতুক সংঘের সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা হয়। তিনি বলেন, “আরএসএসে বিজেপির অনেক নেতা আছেন, সেটা ঠিক। কিন্তু তাই বলে আরএসএস আর বিজেপিকে এক করে দেখা ভুল। দু’টি আলাদা সত্তা।”

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/12/21/yuba-bharati-messi-event-chaos-shatadru-dutta-claims/

হিন্দু সমাজকে একত্রিত করার লক্ষ্যে শিকড়ে ফেরার আহ্বান জানান সরসংঘচালক। বক্তব্যে উঠে আসে স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায় ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বাঙালি মনীষীদের নাম। বিশেষ করে সমাজ সংস্কারক রামমোহন রায়ের প্রশংসায় সরব হন তিনি। ভাগবতের (Mohan Bhagwat in West Bengal) কথায়, “রামমোহন রায় আজীবন সমাজ সংস্কারের জন্য লড়াই করে গিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই সমাজ সংস্কারের যে ধারা শুরু হয়েছিল, আরএসএস সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।”

ভারতীয় তথা হিন্দু সমাজ ঐক্যবদ্ধ না হওয়ার কারণেই অতীতে একের পর এক বিদেশি শক্তির হাতে দেশ পরাধীন হয়েছে বলেও দাবি করেন সংঘপ্রধান। তাঁর বক্তব্য, শক, হুন, পাঠান, মোগল থেকে শুরু করে ইংরেজ—আটবার ভারত বিদেশি শাসনের অধীনে গিয়েছে। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রুখতে হলে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলেই মত তাঁর।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttps://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসার আবহে বঙ্গে এসে মোহন ভাগবতের এই ঐক্যের ডাককে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের লক্ষ্যে কি বিজেপির থেকে কিছুটা দূরত্ব রাখার বার্তা দিতে চাইলেন সরসংঘচালক? নাকি তিনি বুঝেছেন, অতিরিক্ত রাজনৈতিক ছোঁয়া থাকলে বঙ্গ সমাজে সংঘের প্রভাব বিস্তার করা কঠিন? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।