নিউজ পোল ব্যুরো: নেপালের ইলাম জেলার পাহাড়ি কোলে লুকিয়ে রয়েছে একটি স্বর্গসদৃশ স্থান—চিন্তাফু (Chintapfu Trek)। গত কয়েক বছরে বাঙালি পর্যটকদের মধ্যে এটি অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার ট্রেকে যাচ্ছেন, তারা অনেকেই সান্দাকফু (Sandakphu) বাদ দিয়ে চিন্তাফু (Chintapfu) বেছে নিচ্ছেন। তবে যুগ যুগ ধরে সান্দাকফু ছিল বাঙালি ট্রেকারদের প্রিয়। এটি সহজেই পৌঁছানো যায়—হোক তা পায়ে হেঁটে বা ল্যান্ড রোভারে চেপে। সান্দাকফু থেকে যেমন দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga), এভারেস্ট (Everest) এবং মাকালু (Makalu) শৃঙ্গ, তেমনই চিন্তাফু (Chintapfu Trek) থেকেও এই অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। কিন্তু চিন্তাফু কিছুটা বেশি নিরিবিলি, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অতুলনীয় অনুভূতি। চিন্তাফু ট্রেক (Chintapfu Trek) সাধারণত ৬-৭ দিন সময় নেয়। প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা হেঁটে পাহাড়ি পথে অগ্রসর হতে হয়। বিভিন্ন রুটে ট্রেক করা যায়—কেউ ফালুট (Phalut) হয়ে যায়, আবার কেউ সান্দাকফু হয়ে গুরুওয়ালেভঞ্জম (Guruwalevjang) পৌঁছায়। পথে যমুনা (Jamuna), মায়মাজুয়া (Maymajuwa), গুরুওয়ালেভঞ্জমের মতো ছোট ছোট গ্রামগুলো পর্যটকদের মন জয় করে।
চিন্তাফু ট্রেকের (Chintapfu Trek) আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে মায়মাজুয়া এবং গুরুওয়ালেভঞ্জমে। অনেক ট্রেকার ইলামের দেওরালি (Ilam Deorali) হয়ে মায়মাজুয়া পৌঁছায়, আবার কেউ দার্জিলিংয়ের মানেভঞ্জন (Manebhanjyang) হয়ে মাইপোখরি (Maipokhari) বা গৈরিবাস (Gairibas) হয়ে আসে। গৈরিবাস রুটে ধোত্রে (Dhotre), টংলু (Tonglu) এবং টুমলিং (Tumling) গ্রামের মধ্য দিয়ে হেঁটে আসা যায়। মায়মাজুয়া দ্বিতীয় দিনের গন্তব্য। মাইপোখরি থেকে মায়মাজুয়া প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্বে, কিন্তু পথটি অত্যন্ত সুন্দর। ঘন পাইন (Pine) এবং রডোডেনড্রন (Rhododendron) জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতেই ক্লান্তি মুছে যায়। মায়মাজুয়া থেকে তৃতীয় দিনের ট্রেক শুরু হয় গুরুওয়ালেভঞ্জমের দিকে। এখানে মেঘেদের খেলা সর্বক্ষণ চলে, তাই দূর থেকে গ্রামটি বোঝা যায় না। এই ছোট্ট গ্রামে কাঠের বাড়ি আর চাষের জমি এক অন্যরকম শান্তি দেয়। গুরুওয়ালেভঞ্জম থেকে মাত্র ৩-৪ কিলোমিটার হাঁটলেই পৌঁছানো যায় চিন্তাফুতে (Chintapfu Trek)। রাত কাটানো হয় গ্রামে, আর সকালে সূর্যোদয় দেখা যায় চূড়ায় বসে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
চিন্তাফু (Chintapfu Trek) থেকে নামার জন্য আল বা ফালুটের রাস্তাও নেওয়া যায়। শ্রীখোলা (Srikhola) এবং রিম্বিক (Rimbik) রুটে পর্যটকের সংখ্যা কম। তবে এখানেও কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করা যায়, সঙ্গে থাকে রডোডেনড্রন ও পাইনের জঙ্গল। খরচও ১৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই আজকাল অনেকেই স্বপ্নের ট্রেকের জন্য চিন্তাফু বেছে নিচ্ছেন। চিন্তাফু ট্রেক (Chintapfu Trek) শুধু পাহাড় নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে এক আত্মিক সংযোগের অভিজ্ঞতা। শান্তি, নিরিবিলি পরিবেশ এবং অপূর্ব দৃশ্য—সবই এখানে রয়েছে।
