Viral Conjunctivitis : বড়দিন-নতুন বছর উদযাপনে ভিড়ের মধ্যে চোখের সংক্রমণের সতর্কবার্তা! কনজাঙ্কটিভাইটিস বেড়ে চলেছে শীতে

লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: বড়দিনে ভিড়ের মধ্যে হাঁটাচলা করা প্রায় সবারই হয়েছে। সামনে বছর শেষের অনুষ্ঠান, নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন, কনসার্ট, পার্টি—সব মিলিয়ে আবারও জমায়েত বাড়বে। এই আনন্দের মাঝেই বাড়ছে চোখের সংক্রমণের আশঙ্কা। বিশেষ করে চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে কনজাঙ্কটিভাইটিস (Conjunctivitis)। চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, এবছর শীতে চোখের এই সংক্রমণ আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর আকার নিচ্ছে। সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন’ (NCBI)-এর এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, শীতকালে বাতাসে দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই দূষিত বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম কণার সঙ্গে ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া সহজেই বহুদূর ছড়িয়ে পড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চোখের উপর। বিশেষ করে অ্যাডিনোভাইরাস চোখের কনজাঙ্কটিভায় (Viral Conjunctivitis) সংক্রমণ ঘটাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে কর্নিয়াকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আরও পড়ুন : Christmas in Kolkata : বড়দিনে উৎসবের শহর কলকাতা! পার্ক স্ট্রিট থেকে ভিক্টোরিয়া, জনসমুদ্রে ডুবল মহানগর

চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে ওঠা, অনবরত জল পড়া, আঠালো তরল বের হওয়া, পিচুটি জমা ও দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া—এসবই কনজাঙ্কটিভাইটিসের (Conjunctivitis) সাধারণ লক্ষণ। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কর্নিয়ায় ক্ষত বা ঘা তৈরি হচ্ছে, যা দৃষ্টিশক্তির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। ভাইরাল সংক্রমণের পাশাপাশি অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিসও বড় চিন্তার কারণ (Viral Conjunctivitis)। চক্ষু চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানাচ্ছেন, এ ক্ষেত্রে চোখে তীব্র চুলকানি, জ্বালা, ফোলা ভাবের সঙ্গে হাঁচি ও নাক দিয়ে জল পড়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। শুধু জল দিয়ে চোখ ধুলে অনেক সময় আরাম মেলে না। তখন চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি-অ্যালার্জি বা লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা জরুরি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

কনজাঙ্কটিভাইটিস(Conjunctivitis) পুরোপুরি ঠেকানোর কোনও ওষুধ বা প্রতিষেধক নেই। তাই সতর্কতাই একমাত্র উপায়। বারবার হাত ধোয়া, চোখে অপরিষ্কার হাত না দেওয়া এবং খুব বেশি ভিড় এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। বাইরে বেরোলে সানগ্লাস ব্যবহার করলে ধুলোবালি ও দূষণ থেকে চোখ কিছুটা সুরক্ষিত থাকে। চোখে সংক্রমণ হলে দিনে কয়েকবার ঈষদুষ্ণ নুন-জলে তুলো ভিজিয়ে চোখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। উষ্ণ তোয়ালে দিয়ে চোখে হালকা ভাপ নিলেও আরাম মেলে। চোখে জ্বালা বা চুলকানি থাকলে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার একেবারেই বন্ধ রাখতে হবে।খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, বাদাম, সবুজ শাকসবজি, গাজর, ব্রোকলি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল—কমলালেবু, পেয়ারা, পেঁপে—নিয়মিত খাওয়া দরকার। পাশাপাশি শীতকাল হলেও দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার জল পান করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, উলের পোশাক থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে, যা ত্বক হয়ে চোখে প্রভাব ফেলতে পারে। সামান্য অস্বস্তি হলেই দেরি না করে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।