নিউজ পোল ব্যুরো: অষ্টমীর সন্ধ্যায় যে মানুষটিকে দেখা গিয়েছিল চেতলা অগ্রণীর প্যান্ডেলে, বড়দিনে তিনিই আবার হাজির পার্ক স্ট্রিটের ঝলমলে আলোয় মোড়া অ্যালেন পার্কে (Christmas in Kolkata)। উৎসব যেখানে মূল কথা, সেখানে বাধা দেওয়ার সাধ্য কার! কলকাতার বড়দিন মানেই ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মিলনের আনন্দ (Christmas in Kolkata)। যিশুর জন্মোৎসবে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটলেন ক্রিস্টোফার জার্বার, উৎপল দে, আবু ওবায়েদ—ধর্ম আলাদা হলেও উৎসব যে সবার, তা যেন প্রতি মুহূর্তে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল শহর (Christmas in Kolkata)।
রাসেল স্ট্রিট থেকে চৌরঙ্গি, কিড স্ট্রিট ছুঁয়ে সাহেবপাড়ার অলিগলি হয়ে উঠল জনসমুদ্রে ভরা। মোবাইল ফোনে সেলফির ঝড়, রিচ ফ্রুট কেকের মিষ্টি কামড়, মাথায় প্লাস্টিকের হরিণের শিং লাগিয়ে তরুণীদের উচ্ছ্বসিত চিৎকার—“লেটস পার্টি!” সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পার্টির সংজ্ঞাও বদলেছে। সকাল হতেই বিনোদন পার্ক, চিড়িয়াখানা, জাদুঘরে ঠাসাঠাসি ভিড়। আলিপুর চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, বড়দিনে সেখানে ৪৪ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল। ইকো পার্কের (Eco Park) চিড়িয়াখানায় ( Alipur Zoo) দর্শকসংখ্যা ছুঁয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, সায়েন্স সিটি হয়ে উঠেছিল পারিবারিক পিকনিকের কেন্দ্রস্থল। ভিক্টোরিয়ায় একদিনে ৩৪,১৫১ জন এবং ইকো পার্কে ৫০,৭০০ জন মানুষের উপস্থিতি শহরের উৎসবপ্রেমের ছবিটা আরও স্পষ্ট করেছে। সন্ধে নামতেই শহরের নাইট ক্লাবগুলিতে ভিড় জমাল জেনারেশন জেড। কাজের সূত্রে বিদেশে থাকা বহু তরুণ-তরুণী বছরের এই সময়েই ফিরে আসেন শহরে। তার উপর মরশুমের শীতলতম দিনের আবহ—সব মিলিয়ে ঘরে বসে থাকার মানসিকতা কারও ছিল না।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সকালের দিকেই টিনএজারদের স্রোত ময়দান থেকে পার্ক স্ট্রিটে। ক্যাফে, রেস্তরাঁয় জায়গা পাওয়া ছিল দুষ্কর। সাহেবি বড়দিন মানেই ইংলিশ ব্রেকফাস্ট—সসেজ, বেকন, গ্রিলড টম্যাটোর চাহিদা তুঙ্গে। ফ্লুরিজের মতো শতাব্দীপ্রাচীন রেস্তরাঁর সামনে সকাল দশটা থেকেই দীর্ঘ লাইন প্রমাণ করছিল, উৎসবে অলসতার জায়গা নেই (Christmas in Kolkata)। ভিড় সামাল দিতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ পার্ক স্ট্রিট ও ময়দান স্টেশনে আলাদা প্রবেশ-প্রস্থান পথ চালু করে। বড়দিন উপলক্ষে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত বাস চলেছে। যদিও সুযোগ বুঝে ট্যাক্সি ও অ্যাপ ক্যাবের অতিরিক্ত ভাড়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবু সব অভিযোগ ছাপিয়ে বড়দিনে কলকাতা আবারও প্রমাণ করল—এই শহর উৎসবের শহর (Christmas in Kolkata)।
