Thailand: বিষ্ণুমূর্তি ভাঙা ইস্যুতে কূটনৈতিক অস্বস্তি, মুখ খুলল ভারত ও থাইল্যান্ড

আন্তর্জাতিক

নিউজ পোল ব্যুরো: কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ড (Thailand) সীমান্ত সংঘাতের আবহে এবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল এক ধর্মীয় ইস্যুকে ঘিরে। কম্বোডিয়ার (Cambodia) মাটিতে অবস্থিত হিন্দু দেবতা ভগবান বিষ্ণুর একটি বিশাল মূর্তি থাইল্যান্ড (Thailand) প্রশাসনের নির্দেশে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশ ‘বয়কট থাইল্যান্ড’ স্লোগান তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির উপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ইতিমধ্যেই উদ্বেগে ব্যাংকক।

আরও পড়ুন: CAT 2025: আইআইএমের বাইরে কোন কোন প্রতিষ্ঠানে এমবিএ? জেনে নিন CAT Exam এর সুযোগের পরিধি

ঘটনার পর ভারত সরকারের তরফে কড়া বিবৃতি জারি করা হয়। বিদেশমন্ত্রক জানায়, এই ঘটনা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে কম্বোডিয়া (Cambodia)ও থাইল্যান্ড (Thailand) উভয় দেশকেই অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্থাপনার কোনও ক্ষতি না হয়।

সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বহু ভারতীয় পর্যটক থাইল্যান্ড ভ্রমণ বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, “যে দেশ আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অসম্মান করে, তাকে আর্থিকভাবে সমর্থন করার কোনও কারণ নেই।” আবার কেউ পাটায়া ও ব্যাংককের বুকিং বাতিল করার ডাক দিয়েছেন। অনেকেই দাবি করেছেন, ভারতীয় পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি বড়সড় ধাক্কা খাবে।

এই পরিস্থিতিতে চাপ বাড়তে দেখে মুখ খুলেছে থাইল্যান্ড সরকার। তাদের দাবি, যে স্থানে মূর্তিটি ছিল সেটি কোনও স্বীকৃত ধর্মীয় স্থান নয় এবং সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থেই সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। তবে এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমাতে পারেনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৪ সালে কম্বোডিয়ার একটি মন্দির চত্বরে ৩২৮ ফুট উচ্চতার ওই বিষ্ণুমূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। মূর্তিটি থাইল্যান্ড সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় দুই দেশের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মধ্যেই সেটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাই মাসে টানা পাঁচ দিন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। সেই সংঘাতে উভয় দেশের মিলিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়। পরে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। অক্টোবরের শান্তিচুক্তির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও ডিসেম্বরেই ফের উত্তেজনা বাড়ে। সেই উত্তপ্ত আবহেই বিষ্ণুমূর্তি ভাঙার ঘটনা নতুন করে কূটনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক উসকে দিল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole