নিউজ পোল ব্যুরো: অবশেষে স্বস্তি ফিরল ভারতীয় ফুটবলে। কাটল জট। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুখবর! আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সরস্বতী পুজো ও ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন থেকেই মাঠে গড়াতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য এই সুখবর ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:Suresh Kalmadi: কমনওয়েলথ গেমস বিতর্ককে সঙ্গে নিয়েই না ফেরার দেশে সুরেশ কালমাদি
গত কয়েক মাস ধরে বিনিয়োগকারী সংস্থা ও ফেডারেশনের টানাপোড়েনে আইএসএল শুরু হওয়া নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছিল। স্পনসর সমস্যা এবং আইনি জটিলতায় লিগ পিছিয়ে যাওয়ায় হতাশ ছিলেন সমর্থক থেকে ফুটবলাররা। মঙ্গলবার দিল্লিতে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইএসএলের ১৪টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা। মোহনবাগান, মহমেডান ছাড়াও হাজির ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিনিধিরা। ক্লাব জোটের মিটিংয়ে সামিল না হলেও, ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লাল হলুদের কর্তারা। আসন্ন আইএসএল সিঙ্গেল লেগে হবে। তবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ফরম্যাটে হবে। এবারের আইএসএলের জন্য ২৪-২৬ কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তারমধ্যে প্রায় ১০ কোটি দেবে ফেডারেশন। বাকিটা ক্লাবগুলো বহন করবে। তবে সূচি এখনও ঘোষিত হয়নি। শোনা যাচ্ছে, হোম এবং অ্যাওয়ে ফরম্যাটে খেলা হওয়ার পর নক আউট পর্ব হবে।

এদিন ক্রীড়ামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই জট খুলেছে। মন্ত্রী জানান, “আইএসএল নিয়ে অনেক জল্পনা ছিল। কিন্তু আজ সরকার, ফুটবল ফেডারেশন এবং ১৪টি ক্লাবের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পর আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকেই লিগ শুরু হবে।” আওএসএলে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে মোট ৯১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। শুধু তাই নয়, আইএসএলের সমসাময়িক সময়েই শুরু হবে আই লিগ (I-League), যেখানে ১১টি দল অংশ নেবে। আইএসএল কলকাতার ফুটবল প্রেমীদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আবারও কলকাতার ‘তিন প্রধান’— মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল এফসি এবং মহামেডান স্পোর্টিং একই সাথে এই কোটিপতি লিগে অংশ নিচ্ছে। ক্রীড়ামন্ত্রী আলাদাভাবে এই তিন ক্লাবের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে জানান, ঐতিহ্যবাহী এই দলগুলোর উপস্থিতি লিগের জৌলুস আরও বাড়িয়ে দেবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
লিগ পরিচালনার জন্য ২৫ কোটি টাকার একটি ‘সেন্ট্রাল পুল’ বা কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) সভাপতি কল্যাণ চৌবে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো বাণিজ্যিক অংশীদার (Commercial Partner) না থাকায় ফেডারেশন নিজেই অর্থের বড় অংশ জোগান দেবে। লিগ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি গভর্নিং কাউন্সিলও গঠন করা হবে।
সব মিলিয়ে, দেরিতে হলেও লিগ শুরুর ঘোষণায় স্বস্তিতে ভারতীয় ফুটবল মহল। এখন শুধু অপেক্ষা ১৪ ফেব্রুয়ারির, যখন যুবভারতী থেকে কেরালা—সবুজ ঘাসে বল গড়ানোর শব্দে মেতে উঠবে সমর্থকরা।
