নিউজ পোল ব্যুরো: বিগত সমস্ত বছরের পরিসংখ্যানকে পিছনে ফেলে এ বছর কেনাকাটায় নতুন ইতিহাস তৈরি করল কলকাতা সরস মেলা (Kolkata Saras Mela)। মেলার উদ্বোধনের দিনই রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, এ বছর বিক্রির অঙ্ক আগের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে। মেলার সমাপ্তির পর দেখা গেল, সেই পূর্বাভাস শুধু সত্যিই হয়নি, বরং প্রত্যাশার থেকেও অনেক বেশি সাফল্য এসেছে। নিউটাউনের মেলাপ্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ২১তম কলকাতা সরস মেলায় এ বছর মোট বিক্রির পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকায় (Kolkata Saras Mela)। গত বছর যেখানে এই মেলার মোট বিক্রি ছিল প্রায় ৩৫ কোটি টাকা, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত উদ্যোক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা। মেলা কর্তৃপক্ষের দাবি, এত বিপুল বিক্রি বিগত সমস্ত বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে (Kolkata Saras Mela)।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের ব্যবস্থাপনায় এবং আনন্দধারা (Anandadhara) প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত এই মেলায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তাদের হাতে তৈরি পণ্যের সম্ভার সাজিয়ে বসেছিলেন। গৃহসজ্জার সামগ্রী, কাঠ ও বাঁশের আসবাব, টেরাকোটা শিল্পকর্ম, কাঁথা স্টিচ, হস্তশিল্পের পোশাক, শীতকালীন জামাকাপড় থেকে শুরু করে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠে-পুলির স্টল ছিল দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ। টানা ১৫ দিন ধরে চলা এই মেলায় প্রতিদিনই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও বহু মানুষ কেনাকাটার জন্য সরস মেলায় ভিড় জমিয়েছিলেন (Kolkata Saras Mela)। এর ফলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মহিলা সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
গতকাল মেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শিউলি সাহা বলেন, “বাংলাকে নিয়ে অনেকেই বলে এখানে শুধু খেলা আর মেলার সরকার চলছে। ৬৫ কোটি টাকার বিক্রি সেই অপপ্রচারের জবাব দিচ্ছে। আজ বাংলার মহিলারা স্বনির্ভর, আর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও বাংলা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে।” সমাপ্তি অনুষ্ঠানে নিউটাউনের সরস মেলায় অংশগ্রহণকারী এক সফল কাশ্মীরি শিল্পীকেও পুরস্কৃত করা হয় (Kolkata Saras Mela)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক সরকারি আধিকারিক। সব মিলিয়ে এ বছরের কলকাতা সরস মেলা (Kolkata Saras Mela) শুধু কেনাকাটার নিরিখে নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
