নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্য সরকারের ঘোষিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে সফল করতে প্রশাসনিক স্তরে যেমন দ্রুততা ও তৎপরতা দেখানো হচ্ছে, তেমনই রাজনৈতিক স্তরেও সতর্ক ও সক্রিয় থাকার বার্তা দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। দলের নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা থেকে ব্লক, পঞ্চায়েত ও পুরসভা—সব স্তরেই জনপ্রতিনিধিদের মাঠে নেমে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ রাজ্যের পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে বিপুল সংখ্যক নির্বাচিত প্রতিনিধি তৃণমূলেরই (Trinamool Congress), যাদের হাত ধরেই সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যত মসৃণ হয়। নবান্নের (Nabanna) কাছে এই জনপ্রতিনিধিরাই সরকারের সবচেয়ে বড় ভরসা।
আরও পড়ুন : ED Raids : কয়লাকাণ্ডে ফের তৎপর ইডি, প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরের তল্লাশি
একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজের সমান্তরালে রাজনৈতিক প্রচারেও গতি এনেছে শাসক দল। এই প্রচারের কেন্দ্রীয় বার্তা একটাই—কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করলেও রাজ্য সরকার থেমে থাকেনি। বরং নিজের কোষাগার থেকেই উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য। তৃণমূলের রাজনৈতিক ভাষ্যে এই বার্তাই উঠে আসছে, “মোদী নিচ্ছে, দিদি দিচ্ছে।” আবাস যোজনা (PMAY) ও গ্রামসড়ক যোজনা (PMGSY)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে গত কয়েক বছর ধরে বরাদ্দ বন্ধ থাকার অভিযোগ করে আসছে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল নেতৃত্ব (Trinamool Congress)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তার সরকারের দেড় দশকের কাজের হিসেব তুলে ধরতে প্রকাশ করেছেন ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। এই পাঁচালির গান গেয়েছেন শিল্পী ইমন চক্রবর্তী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা বক্স বাজিয়ে, পড়ায় পড়ায় ঘুরে এই পাঁচালির প্রচার চালাচ্ছেন। কোথাও চাটাই পেতে গোল হয়ে বসে সাধারণ মানুষকে সেই পাঁচালি শোনানো হচ্ছে। এই প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar) প্রকল্প, যা গ্রামীণ ও শহুরে মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রচার কর্মসূচি ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তার ওপর কড়া নজর রাখছে আইপ্যাক (IPAC) টিম। তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর পাশাপাশি পরামর্শদাতা সংস্থার সমান্তরাল বাহিনী গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক প্রচারে সক্রিয় নজরদারি চালাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—সরকারি উন্নয়নের বার্তা যেন প্রত্যন্ত গ্রামের শেষ মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়, এবং রাজনৈতিকভাবে সেই বার্তাকে সংগঠিত রূপ দেওয়া যায়।
