নিউজ পোল ব্যুরো: হামিদ আহদাদের পর ইস্টবেঙ্গল ছাড়ছেন হিরোশি ইবুসুকি (Hiroshi Ibusuki)। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে দিমিত্রিয়স দিয়ামানট্যাকোস (Dimitrios Diamantakos) পরিবর্তে অনেক আশা নিয়ে সাড়ে ৬ ফুটের দীর্ঘকায় জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি ইবুসুকিকে সই করিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই ফুটবলারের থেকে লাল-হলুদ সমর্থকরা অনেক গোলের প্রত্যাশা করেছিলেন।
আরও পড়ুন:David Beckham : বাবাকে আইনি নোটিশ পাঠালেন ডেভিড বেকহ্যামের বড় ছেলে
হেড কোচ অস্কার ব্রুজোঁ (Oscar Bruzon) দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে চান। সুপার কাপের (Super Cup) ফাইনালে হিরোশি ইবুসুকির ব্যর্থতা আরও বেশি করে চোখে পড়েছে। গোয়ার ফতোর্দা স্টেডিয়ামে সুপার কাপের ফাইনালে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে যে গোল মিস করেছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য। তাই আইএসএল শুরুর আগেই ধীরে ধীরে ঘর গুছিয়ে নিতে চায় ইস্টবেঙ্গল। আক্রমণভাগে নতুন ও কার্যকর বিদেশি স্ট্রাইকার আনার পরিকল্পনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হিরোশি ইবুসুকিকে নিয়ে এই আলোচনা শুরু হয় বৃহস্পতিবার অনুশীলন থেকে। এদিন তিনি প্র্যাক্টিসের পর তার সতীর্থদের ‘অল দ্য বেস্ট’ জানিয়ে টিম বাসে ওঠেন। আর কেন তিনি এ কথা বললেন তা নিয়েই শুরু হয়ে গেছে আলোচনা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাপান থেকে উড়ে গিয়েছিলেন স্পেনে। প্রথম জাপানি ফুটবলার হিসেবে খেলেন স্পেনের সেভিয়াতে। বুলফাইটিংয়ের দেশে প্রথম যখন যান, তখন স্প্যানিশ জানতেন না। ট্রান্সলেটর নিয়ে ঘুরতেন। স্পেনের একাধিক ক্লাবে খেলেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’ লিগের দল ওয়েস্টার্ন ইউনাইটেড থেকে ইস্টবেঙ্গলে এসেছিলেন হিরোশি। অস্ট্রেলিয়ার ক্লাবটির হয়ে ১২০টি গোল করেছেন। বিভিন্ন মহাদেশের শীর্ষস্থানীয় লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অথচ লাল-হলুদ জার্সিতে তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ। জাপানি রিয়ুজি সুয়োকা এবং কাতসুমি ইউসার মতো সফল হতে পারলেন না হিরোশি। তাই মরশুম শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হচ্ছে।

চলতি মরশুমে দু’টি ফাইনালে খেলেও ট্রফির স্বাদ পায়নি ইস্টবেঙ্গল। আইএফএ শিল্ড (IFA Shield) ও সুপার কাপ (Super Cup) দু’টোতেই টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। দল ভাল খেললেও গোলের অভাবে একের পর এক ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে। সেই আক্ষেপ মেটাতে মরিয়া স্প্যানিশ কোচ। যে কারণে নতুন বিদেশির খোঁজ করছেন তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন তাকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া উচিত ছিল, আবার অনেকের মতে দলের ভালোর জন্য দ্রুত একজন ‘গোল মেশিন’ স্ট্রাইকার প্রয়োজন।
