নিউজ পোল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করেই বড়সড় প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের মুখে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই এক্স-এর পরিষেবা কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিশ্বের একাধিক দেশে। এর জেরে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী। অনেকেই এক্স ব্যবহার করতে না পেরে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন:http://Blinkit: ১০ মিনিটে ডেলিভারি নয় আর! গিগ কর্মী বিতর্কে পিছু হটছে Blinkit
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ভারত ছাড়াও আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা-সহ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা একই সমস্যার সম্মুখীন হন। টাইমলাইন রিফ্রেশ না হওয়া, পোস্ট করা যাচ্ছে না, ডিরেক্ট মেসেজ (DM) পাঠাতে ব্যর্থ হওয়া—এমন একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বহু ব্যবহারকারী জানান, অ্যাপ ও ওয়েব—দু’ক্ষেত্রেই এক্স কার্যত হ্যাং করে যাচ্ছিল।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই প্রযুক্তিগত গোলযোগের সূচনা হয়। প্রথমে সমস্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও বিকেলের পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। সন্ধ্যার পর পরিষেবা একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই লগইন করা গেলেও কনটেন্ট লোড হচ্ছিল না, আবার কোথাও অ্যাকাউন্টই খুলছিল না।

এই বিভ্রাটের সময়কাল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ, এর ঠিক কয়েক দিন আগেই এক্স কর্তা এলন মাস্ক (Elon Musk) প্ল্যাটফর্মটির স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এক্স-এর নিউজ ফিড এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অ্যালগরিদমিক কোড প্রকাশ করা হবে এবং সেটি ওপেন সোর্স রাখা হবে। সেই ঘোষণার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে এই পরিষেবা বিভ্রাট শুরু হওয়ায় নানা জল্পনা দানা বাঁধছে। তবে এই সমস্যার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এটি কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি, সার্ভার ডাউন, নাকি সফটওয়্যার আপডেটজনিত সমস্যা—তা নিয়ে একাধিক সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় আকারের বিভ্রাট সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত এক্স কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
সব মিলিয়ে, হঠাৎ এই Global Service Disruption আবারও প্রশ্ন তুলে দিল বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সামাজিক মাধ্যমের উপর নির্ভরশীলতা এবং প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে।
