নিউজ পোল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন ক্রমশ বাড়ছেই। নতুন করে জটিলতা তৈরি করল নির্বাচন কমিশনের এক সাম্প্রতিক নির্দেশ। বৃহস্পতিবার দিল্লির নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—মাধ্যমিক বা সমতুল দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) আর ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানিতে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই সংক্রান্ত একটি চিঠি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়ালের কাছে পাঠানো হয়েছে (SIR)।
আরও পড়ুন : Weather Update : সপ্তাহান্ত থেকেই বদলাবে আবহাওয়া, রাজ্যে ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে শীতের ইনিংস
এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক (SIR)। কারণ, এর আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে বারবার আবেদন জানানো হয়েছিল যাতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে (Admit Card) গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় রাখা হয়। বাস্তবে গত কয়েক মাস ধরে এসআইআর শুনানিতে ডাক পাওয়া বহু মানুষই তাদের মাধ্যমিক অথবা দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই বিএলও (Booth Level Officer) সেই নথি গ্রহণও করেছেন। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—যারা ইতিমধ্যে এই নথি জমা দিয়েছেন, তাদের কী হবে? নতুন করে কি আবার অন্য কোনও নথি দিতে হবে? উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সংশোধনের ভিত্তি ধরা হয়েছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে। কারণ, ওই বছরই শেষবার ভোটার তালিকায় পূর্ণাঙ্গ নিবিড় সংশোধন হয়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলা-সহ দেশের মোট ১২টি রাজ্যে এই বিশেষ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
নিয়ম অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম নেই, তারা এসআইআর (SIR) শুনানিতে হাজির হয়ে উপযুক্ত নথি জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি নামের বানান, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রেও নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কমিশন মোট ১৩টি নির্দিষ্ট নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে শুরু থেকেই মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের উল্লেখ ছিল না। তবে নাগরিকত্ব প্রমাণে এই নথি বহু ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য—এই যুক্তিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে তা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছিল। সেই কারণে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত এই নথি গ্রাহ্য হবে। কিন্তু এতদিন নথি গ্রহণ করার পর হঠাৎ দিল্লি থেকে তা বাতিলের নির্দেশ আসায় নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজার হাজার ভোটার। এই সিদ্ধান্তের সময় ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েই এখন উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
