নিউজ পোল ব্যুরো: বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন এবং পরবর্তী সময়ে শুল্কবাণের প্রভাব যে শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তার স্পষ্ট ছাপ পড়ল কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলাতেও। এ বছর সাহিত্যের এই মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করছে না আমেরিকা, যা বইপ্রেমী ও প্রকাশনা জগতের কাছে এক বড় চমক। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বইমেলায় উপস্থিত থাকছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন—যা নতুন আগ্রহ ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: Black Cat: ‘ব্ল্যাক ক্যাটস’-এর দলে নাম লেখাতে চান? জেনে নিন এনএসজি-তে নিয়োগের অজানা দিক
কিন্তু কেন এ বার কলকাতা বইমেলায় নেই আমেরিকা? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে মার্কিন কনসুলেট নিজেই। তাদের দাবি, বইমেলায় স্টল দেওয়ার জন্য এ বছর আমেরিকা সরকার কোনও আর্থিক বরাদ্দ দেয়নি। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগেই পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় জানান, সেই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে এ বার আমেরিকার পক্ষে বইমেলায় অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। আমেরিকার অনুপস্থিতির পাশাপাশি এ বছরও বইমেলায় নেই বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে গিল্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা কোনও সরকারি সংস্থা নন এবং নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী দেশগুলিকে স্টলের জন্য আবেদনপত্র পাঠাতে হয়। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনপত্র পাঠাননি বলেই তাঁদের অংশগ্রহণ হয়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বহু বছর ধরেই কলকাতা বইমেলায় নিয়মিত স্টল দিয়ে এসেছে আমেরিকা। ২০১১ সালে তারা থিম কান্ট্রি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিল। এমনকি ২০১৭ সালেও ফের থিম রাষ্ট্র হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল তারা। সেই আলোচনা চললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে গিল্ডের এক আধিকারিক জানান।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে, এ বছর প্রথমবার কলকাতা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে ইউক্রেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শিল্প ও সাহিত্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত বইপ্রেমীরা। গিল্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, “ইউক্রেনের অংশগ্রহণ বইমেলাকে আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা দেবে।” প্রসঙ্গত, গত বছর ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কম দামে রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের অবস্থানকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তার পর থেকেই ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে শৈত্য নেমে আসে। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনও সমাধান হয়নি। সেই কূটনৈতিক দূরত্বেরই প্রতিফলন দেখা গেল এ বার কলকাতা বইমেলায় আমেরিকার অনুপস্থিতিতে।
