Black Cat: ‘ব্ল্যাক ক্যাটস’-এর দলে নাম লেখাতে চান? জেনে নিন এনএসজি-তে নিয়োগের অজানা দিক

শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় যে সব বিশেষ বাহিনী নিঃশব্দে কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তাদের মধ্যে অন্যতম ‘ন্যাশনাল সিকিওরিটি গার্ড’ বা এনএসজি। ১৯৮৬ সালের অপারেশন ব্ল্যাক থান্ডার থেকে শুরু করে ২০০৮-এর অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো, আবার ২০১৬ সালে অপারেশন গাজ়ি ও অপারেশন পার্ল— একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযানে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে এই বাহিনী। কালো রঙের পোশাক, হেলমেট ও মুখোশে সজ্জিত এনএসজি কম্যান্ডোরা এতটাই নিঃশব্দে চলাফেরা করেন যে সাধারণ মানুষ তাঁদের ‘ব্ল্যাক ক্যাটস’ নামেই বেশি চেনেন।

আরও পড়ুন: Graduate Pharmacy Aptitude Test 2026: ফার্মাসি স্নাতকোত্তরে ভর্তির পথে স্বস্তি, জিপ্যাট আবেদনপত্র সংশোধনের সুযোগ

এনএসজি-তে যোগ দেওয়া সহজ নয়। এখানে সরাসরি কোনও নিয়োগ হয় না। প্রথমে প্রার্থীকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী— যেমন স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীতে কর্মরত হতে হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যেমন সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি কিংবা সিআইএসএফ-এর কর্মীরাও আবেদন করতে পারেন। তবে সব ক্ষেত্রেই ন্যূনতম তিন বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও কড়াকড়ি রয়েছে। যে কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু এনএসজি প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কঠিন ও চাপযুক্ত, তাই শারীরিক ও মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা আবশ্যক। ন্যূনতম উচ্চতা ১৬৫ সেন্টিমিটার হতে হবে এবং ওজন হতে হবে উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চশমা ছাড়া চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/৬ হওয়া জরুরি। হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি ছ’মিনিটে অন্তত ১৬০০ মিটার দৌড়নো এবং সাঁতারে পারদর্শী হওয়াও আবশ্যক।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

নিয়োগ প্রক্রিয়া মোট পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে চলে ডেপুটেশন প্রক্রিয়া, এরপর সম্মতিপত্র প্রদান। বাছাই হওয়া প্রার্থীদের পাঠানো হয় বিশেষ প্রশিক্ষণে। সেখানে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল শেখানো হয়। শেষ ধাপে চূড়ান্ত বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিতদের এনএসজি অফিসার বা কম্যান্ডো হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। দেশের সুরক্ষায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করাই এই বাহিনীর প্রধান পরিচয়।