নিউজ পোল ব্যুরো: উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। উন্নত পরিকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের পাঠক্রম এবং ভবিষ্যতে ভাল কেরিয়ারের সম্ভাবনা অনেক পড়ুয়াকেই আকর্ষণ করছে বিদেশে পড়ার সুযোগ (Foreign Education)-এর দিকে। তবে বাস্তব সত্য হল, বিদেশে পড়াশোনার খরচ অত্যন্ত বেশি। টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ সামলাতে গিয়ে বহু পড়ুয়াই আর্থিক চাপে পড়েন। সেই কারণেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরির কথা ভাবতে শুরু করেন অনেকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত যদি নিয়ম না জেনে নেওয়া হয়, তা হলে বিদেশে পড়ার সুযোগ (Foreign Education) নিজেই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন:kitchen hacks: শীতে ইটের মতো শক্ত মাখন? উল্টো কাপ থেকে আলমারি নরম রাখার কার্যকর কৌশল জানুন
স্টুডেন্ট ভিসার আওতায় কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট আইন ও সময়সীমা রয়েছে। সাধারণত সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার বেশি কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। এই নিয়ম ভাঙলেই তা ভিসা লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে এবং কড়া শাস্তির সম্ভাবনা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের দেশে ফেরত পাঠিয়েও দেওয়া হয়। তাই সাময়িক আয়ের লোভে নিয়ম ভাঙা মানেই বিদেশে পড়ার সুযোগ (Foreign Education) হারানোর ঝুঁকি নেওয়া। চাকরির ধরন নিয়েও সাবধানতা জরুরি। অনুমোদনহীন সংস্থা বা সন্দেহজনক কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। কিছু সংস্থা পড়ুয়াদের পূর্ণ সময়ের কাজের প্রস্তাব দেয়, যা স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের পরিপন্থী। এমন প্রস্তাব গ্রহণ করলে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ভিসা রিনিউয়ালেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি কর সংক্রান্ত নিয়ম মানাও বাধ্যতামূলক। খণ্ডকালীন বা চুক্তিভিত্তিক কাজ হলেও সংশ্লিষ্ট দেশের কর বিভাগে নাম নথিভুক্ত করা প্রয়োজন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বৈধভাবে বেতন পাওয়া হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এগুলো উপেক্ষা করলে বিদেশে পড়ার সুযোগ (Foreign Education) অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি ঝুঁকি কমাতে ক্যাম্পাসের মধ্যেই চাকরি খোঁজা সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এতে নিয়ম মেনে কাজ করা যায় এবং পড়াশোনার ক্ষতিও কম হয়। কারণ শেষ পর্যন্ত ক্লাসে উপস্থিতি, পরীক্ষার ফল এবং শিক্ষাগত অগ্রগতিই ভিসা রিনিউয়ালের মূল ভিত্তি। কাজের চাপে যদি ক্লাসে অনুপস্থিতির হার বাড়ে বা পরীক্ষায় খারাপ ফল হয়, তা হলে বিদেশে পড়ার সুযোগ (Foreign Education) নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, বিদেশে পড়াশোনার আগে ও চাকরির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকা এবং প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত জরুরি। সচেতন থাকলে যেমন আর্থিক চাপ সামলানো সম্ভব, তেমনই সুরক্ষিত থাকে বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
