Bangladesh Election: ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ, নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রায় সাড়ে তিন দশক পরে বাংলাদেশে (Bangladesh Election) আবার পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর উত্থান ঘটতে চলেছে। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, দেশের নতুন সরকারের নেতৃত্বে আসতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarek Rahman)। রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন তাঁকেই ঘিরে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা ঘিরে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা স্তরে সতর্ক নজর রাখছে ভারত।

আরও পড়ুন: Bangladesh Election: “ভোটের দিনে বিস্ফোরণে কাঁপল বাংলাদেশ! হাসিনার শক্ত ঘাঁটি গোপালগঞ্জে ককটেল হামলা, আহত ৩

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে বাংলাদেশ (Bangladesh Election)। জামায়াতের উত্থান সত্ত্বেও সরকার গঠনের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বিএনপি ও তাদের শরিকরা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটেয় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় গণনা। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফল অনুযায়ী, বিএনপি পেয়েছে ৭৯টি আসন এবং জামায়াতে ইসলামি ও তাদের সহযোগীরা মিলিয়ে পেয়েছে ২৩টি আসন। পাশাপাশি, একাধিক কেন্দ্রে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

এই নির্বাচন ছিল শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগকে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে চূড়ান্ত ভোটদানের হার নিয়ে নির্বাচন কমিশন রাত পর্যন্ত নিশ্চিত কোনও তথ্য জানাতে পারেনি। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিকেল চারটে পর্যন্ত ভোট পড়েছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, জাতীয় নির্বাচন (Bangladesh Election) ও সংশ্লিষ্ট গণভোট মিলিয়ে মোট ভোটের হার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল আনুমানিক ৪১.৮ শতাংশ, যে ভোট বিএনপি-সহ অধিকাংশ বিরোধী দল বয়কট করেছিল।

যদি শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের হাতেই ক্ষমতা যায়, তা হলে রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য সমাপতন ঘটবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এই নির্বাচনকে ঘিরে নয়াদিল্লিও সতর্ক নজর রেখেছে। দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ফলাফল প্রকাশের পরেই ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে। তিনি আরও জানান, ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে। এই নির্বাচনে কোনও ভারতীয় পর্যবেক্ষক না যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি।

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তার সুযোগে জামায়াতে ইসলামির প্রভাব দ্রুত বেড়েছে এমনটাই মনে করছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছিল, এই নির্বাচনে জামায়াত কি ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে? যদিও প্রাথমিক ফল বলছে, জামায়াতের উত্থান সত্ত্বেও বিএনপি ও তাদের জোটই এগিয়ে রয়েছে। তবে বহু আসনে জামায়াত ও তাদের সহযোগী দল এনসিপি বিএনপিকে কড়া লড়াই দিয়েছে।

ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান পিছিয়ে থাকলেও রাজশাহী, রংপুর, যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে একাধিক আসনে দলটি এগিয়ে রয়েছে বলে বেসরকারি সূত্রে খবর। এসব এলাকা পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভারতের নিরাপত্তা মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্রনেতাদের মধ্যে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) কেন্দ্র থেকে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লা বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। তিনি প্রায় এক লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে বহু ব্যবধানে হারান। জয়লাভের পর তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং দেবিদ্বারে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে থাকলেও, নাহিদ ইসলাম, হান্নান মাসাউদ ও সারজিস আলম শুরু থেকেই পিছিয়ে ছিলেন। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসমিন জারা তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেলেও বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদের সঙ্গে টিকে থাকতে পারেননি।

বেসরকারি ফল অনুযায়ী জামায়াতের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এর ফলে দলের অন্দরে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত সর্বাধিক ১৮টি আসন পেয়েছিল। এবার সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগই নিজ নিজ আসনে এগিয়ে রয়েছেন। কক্সবাজারের চকোরিয়া কেন্দ্রে জামায়াতকে পিছনে ফেলে জয় পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। ঠাকুরগাঁওয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির।

নির্বাচন ঘিরে বড় কোনও হিংসাত্মক ঘটনার খবর না আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে চারটি জেলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনার মধ্যে বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যু হয়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মানিকগঞ্জ ও চট্টগ্রামে এক ভোটকর্মী-সহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole