Raju Naskar arrest:ভোটের আগে বেলেঘাটায় গ্রেফতার, চাপে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ!

Uncategorized

নিউজ পোল ব্যুরো:বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক পরিসরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা ও ব্যবসায়ী রাজু নস্করের গ্রেফতারি (Raju Naskar arrest)। স্থানীয় এক বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগে শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। রবিবার শিয়ালদহ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/15/india-production-growth-38-countries-trade-deals-modi/

অভিযোগকারীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ এবং দ্রুত গ্রেফতারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—রাজুর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অভিযোগ সামনে এলেও এত দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ আগে কেন দেখা যায়নি? ভোটের মুখে এই গ্রেফতারি নিছক আইনানুগ প্রক্রিয়া, নাকি এর অন্তরালে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা—তা নিয়েই তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে।

রাজু নস্কর (Raju Naskar arrest)এতদিন মূলত বেলেঘাটার সীমানায় প্রভাবশালী মুখ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এই ঘটনার পর রাতারাতি তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ রাজনৈতিক পরিসরে। দলীয় সূত্রের বক্তব্য, বহু গোষ্ঠীতে বিভক্ত উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে তিনি এক অদৃশ্য ভারসাম্য রক্ষাকারীর ভূমিকায় ছিলেন। সংগঠক হিসেবে যেমন সক্রিয়, তেমনি ব্যবসায়িক প্রভাবও ছিল সুদৃঢ়।

রাজুর রাজনৈতিক যাত্রাপথও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বাম আমলে প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী মানব মুখোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। সেই সময় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর হয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই তিনি শিবির পরিবর্তন করে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেস-এ। সংগঠনিক দক্ষতা ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক—এই দুইয়ের সমন্বয়ে দ্রুতই উত্তর কলকাতার তৃণমূল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

উত্তর কলকাতার প্রায় সব গোষ্ঠীর সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক ছিল বলে দাবি দলীয় সূত্রের। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। আবার দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কিংবা বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পাল-এর সঙ্গেও তাঁর সখ্যের কথা রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

এদিকে দলীয় অন্দরে আরও একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে—রাজুর নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি-র সঙ্গেও বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ছিল। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে চাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তর কলকাতার অন্তর্দ্বন্দ্বে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ। অন্যদের মতে, অভিযোগের প্রকৃতি গুরুতর হওয়ায় এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষার প্রশ্নে গ্রেফতারি এড়ানো সম্ভব ছিল না।

সব মিলিয়ে, রাজু নস্করের গ্রেফতারি এখন শুধুমাত্র একটি ফৌজদারি মামলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। তা উত্তর কলকাতার নির্বাচনী সমীকরণ, দলীয় শক্তির ভারসাম্য এবং প্রশাসনিক বার্তার সমান্তরালে দাঁড়িয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভোটের মুখে এই পদক্ষেপ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত নিশ্চিত—বেলেঘাটার সীমানা পেরিয়ে এই গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রীয় আলোচনায় উঠে এসেছে।