নিউজ পোল ব্যুরো:প্রিয়জনকে হারালেন শেখ হাসিনা। শেষবারের মতো কাকাকে চোখের দেখা দেখাও আর হল না তাঁর (Sheikh Hasina uncle death)। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা–মায়ের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হল বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেন-কে। সম্পর্কে তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার কাকা।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/15/tarique-rahman-oath-om-birla-represents-india-modi-skips-dhaka/
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শেখ কবির হোসেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina uncle death)। এরপর থেকেই তিনি আড়ালে রয়েছেন। সেই কারণেই কাকার শেষযাত্রায় উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে শেখ কবির হোসেনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পৈতৃক বাড়িতে। প্রিয়জনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
পরে তাঁর মরদেহ রাখা হয় টুঙ্গিপাড়া খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে। সেখানে তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান, শেখ কবিরের ভাই শেখ নাদির হোসেন লিপুসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাবা–মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাঁকে।
১৯৪২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ কবির হোসেন। তাঁর বাবা খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন ও মা রাহেলা খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর আপন তুতো ভাই ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও সোনালী ব্যাঙ্কে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। পরে বেসরকারি খাতে যুক্ত হয়ে ২০১৩ সাল থেকে টানা দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব সামলান। তবে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি সেই পদ থেকেও সরে দাঁড়ান।
প্রবীণ এই মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টুঙ্গিপাড়ায়। পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে।
