LPG: গ্যাসের আকালে জেরবার বাংলা! ব্যবসা শিকেয়, বন্ধের মুখে বহু হোম ডেলিভারি পরিষেবা

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছেন হোম ডেলিভারি খাবারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ। উত্তরপাড়ার বাসিন্দা চঞ্চল সামন্ত প্রায় ছয় মাস আগে নতুন গ্রাহক পাওয়ার আশায় নিজের ফোন নম্বর বিভিন্ন সমাজমাধ্যমের গ্রুপে শেয়ার করেছিলেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করা তাঁর খাবার সরবরাহের ব্যবসা এতদিন ভালোই চলছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গ্যাসের (LPG) অভাব সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে একেবারে বদলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: Narendra Modi : কর্মীরা আসবেন তো? মোদির ব্রিগেডে ভিড় মাপতে প্রযুক্তির ভরসা বিজেপির

চঞ্চলবাবু জানান, প্রতিদিন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন গ্রাহক ফোন করে খাবারের হোম ডেলিভারি চাইছেন। কারও পরিবারে তিনজন, কারও চারজন। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায় রান্না করার মতো গ্যাসই (LPG) নেই। ফলে নতুন অর্ডার নেওয়া তো দূরের কথা, যেসব ১৫-১৬টি পরিবারে তিনি নিয়মিত খাবার সরবরাহ করতেন, সেগুলিও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই পরিবারগুলির মধ্যে অনেক প্রবীণ মানুষও রয়েছেন। আপাতত ইন্ডাকশন চুলোর সাহায্যে কয়েকটি বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে নতুন হোম ডেলিভারি অর্ডার আপাতত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

এই পরিস্থিতি শুধু চঞ্চলবাবুর নয়। গ্যাসের অভাবে প্রায় সব হোম ডেলিভারি পরিষেবা প্রদানকারীরই একই অবস্থা। বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, আর মিললেও দাম অনেক বেশি। ফলে রান্না করাই কঠিন হয়ে উঠেছে। এতে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা যেমন, তেমনই বিপাকে পড়েছেন সেই সব মানুষও, যারা নিয়মিত এই খাবারের উপর নির্ভর করেন। বিশেষ করে প্রবীণদের দুর্ভোগ আরও বেশি।

অন্যদিকে, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের কারণে অনেকেই নিজেদের ঘরের গ্যাস বাঁচাতে এখন হোম ডেলিভারি খাবারের উপর নির্ভর করতে চাইছেন। অনেক পরিবার দুপুরের ভাত থেকে রাতের রুটি পুরো খাবারের দায়িত্বই বাইরের হোম সার্ভিসের হাতে তুলে দিতে চাইছেন, যাতে ঘরের গ্যাস কিছুটা সাশ্রয় হয়।

মফস্বলের ছোট শহরগুলিতেও খোঁজ নিলে দেখা যায়, অন্তত ১০-১২ জন করে মানুষ এই ধরনের হোম ডেলিভারি ব্যবসা চালান। পাড়ায় পাড়ায় ছোট পরিসরে অনেকেই বাড়িতে রান্না করে খাবার পৌঁছে দেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সব জায়গাতেও ক্রমাগত ফোন আসছে, অথচ অধিকাংশই অর্ডার নিতে পারছেন না।

নিউ বারাকপুর এলাকার এক গৃহবধূ জানান, অন্তত দুপুরের খাবার পেলেও অনেকটা স্বস্তি মিলত। অফিসে যাওয়া সদস্যরা বাইরে খেয়ে নিতে পারেন, আর রাতে প্রয়োজনে দোকান থেকে রুটি-সবজি কেনা যায়। কিন্তু এখন কেউই নতুন করে খাবার সরবরাহ করতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে অনেকেই সমাজমাধ্যমে নতুন হোম ডেলিভারি পরিষেবার খোঁজে পোস্ট করছেন।

সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন একা থাকা প্রবীণ নাগরিকরা। তাঁদের অনেকেই নিয়মিত হোম ডেলিভারির খাবারের উপর নির্ভর করেন। যদি এই পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কীভাবে খাবারের ব্যবস্থা করবেন সেই আতঙ্কে ভুগছেন তাঁরা। অনেকের বাড়িতেই রান্না করার মতো পরিকাঠামো নেই।

অন্যদিকে হোম ডেলিভারি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আপাতত তাঁরা নতুন কোনও গ্রাহকের অর্ডার নিচ্ছেন না। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত তাঁদের কাছ থেকে খাবার নেন, তাঁদের জন্য সীমিত পরিসরে ইন্ডাকশন বা বিকল্প উপায়ে রান্না করে ডাল-ভাত কিংবা রাতের রুটি-সবজি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নতুন করে কেউ ফোন করলে আপাতত পরিষেবা বন্ধ রয়েছে বলেই জানানো হচ্ছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole