নিউজ পোল ব্যুরো: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee death) অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি এবং নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে, তা দূর করতে একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’ (Magic Moments Motion Pictures)। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য তারা ইতিমধ্যেই একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একইসঙ্গে তদন্তে কোনও প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay Resignation)।
সংস্থার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে রাহুল দীর্ঘ সময়, প্রায় ৪০ মিনিট, জলের নিচে ছিলেন। তবে এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করেছে প্রযোজনা সংস্থা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রাহুলকে জল থেকে তোলার সময় তিনি সচেতন অবস্থায় ছিলেন এবং কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ। সংস্থার মতে, প্রথম হাসপাতালে যদি যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া যেত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। পরে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে সংস্থা ইতিমধ্যেই শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ শুরু করেছে। তদন্তে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাহুলের পরিবার, বন্ধু অথবা আর্টিস্ট ফোরামের মনোনীত প্রতিনিধিকে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমনকি শুটিংয়ের ভিডিও ফুটেজ, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের নথি এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রও তাঁদের সামনে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত সংস্থা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে (Leena Gangopadhyay Resignation) ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, তিনি মূলত সংস্থার লেখিকা ও ক্রিয়েটিভ প্রধান হিসেবে যুক্ত ছিলেন, প্রশাসনিক বা পরিচালনাগত কোনও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তবুও তার পদমর্যাদার কারণে যাতে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুটিংয়ের অনুমতি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থা। পাশাপাশি, কোনও রকম গাফিলতি হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থার ডিরেক্টর শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাহুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে ও তদন্তে সহযোগিতা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
