নিউজ পোল ব্যুরো:শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়ে উঠেছে। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর বাড়ি পরিদর্শনে গেলে সেখানে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালেও, ঘটনার দায় নিয়ে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি শিবির। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) স্পষ্টভাবে দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি-এর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, এটি মূলত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ—অর্থাৎ “তৃণমূল বনাম তৃণমূল”-এর সংঘর্ষ।
সোনারপুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যা ঘটেছে তা কোনও সুস্থ ও সভ্য সমাজে কাম্য নয়। আমরা যে কোনও ধরনের হিংসার নীতিগত বিরোধী। তবে এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কোনও যোগ নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।”
তিনি আরও তীব্র ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, দলটি আদৌ কোনও সুসংগঠিত রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবদমিত ক্ষোভের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দলে থাকা একাংশ নেতা-কর্মীর “না পাওয়ার বেদনা” এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষই এ ধরনের হামলার জন্ম দিচ্ছে।
শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) অভিযোগ, রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর অশান্তির আশঙ্কা অস্বীকার করা যায় না। অতীতের একাধিক নির্বাচনী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বহু ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
একইসঙ্গে তিনি পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এবং ইতিমধ্যেই পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
এছাড়াও, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-এর ভূমিকার প্রশংসা করে শমীক ভট্টাচার্য তাঁকে একজন দক্ষ প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য-রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত ও সংঘাতমুখী হয়ে উঠছে, তখন ভারতীয় জনতা পার্টির “তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব” তত্ত্ব নতুন করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
