নিউজ পোল ব্যুরো:রাজারহাট-নিউটাউনের (Rajarhat New Town) রাজনৈতিক অন্দরে ফের চর্চার কেন্দ্রে প্রাক্তন কাউন্সিলর আজিজুল হোসেন মণ্ডল। একসময় সিপিআই(এম), পরে তৃণমূল, টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়, তারপর আবার তৃণমূলে ফেরা— তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ বরাবরই ছিল ঘটনাবহুল। এবার বিজেপির সঙ্গে ক্রমশ বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
কিছুদিন আগেও তৃণমূলের হয়ে সরব ছিলেন আজিজুল। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁর নাম শোনা গিয়েছিল তাপস চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে ভোটের লিড নিশ্চিত করার দাবিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণে বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিজেপির রাজারহাট-নিউটাউন (Rajarhat New Town) ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি বাসুদেব বিশ্বাসকে প্রকাশ্যে সংবর্ধনা দিতে দেখা যায় তাঁকে। আর সেই ঘটনাই রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে তাঁর ওয়ার্ড অফিসের বদলে যাওয়া চেহারা। একসময় যেখানে তৃণমূল নেতৃত্বের ছবি ছিল, সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবি। উল্লেখযোগ্যভাবে, আর নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান কাউন্সিলর মমতা মণ্ডলও।
এই আবহেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোড়িয়া। তিনি বলেন, “কেউ যদি মনে করেন ফুলের তোড়া দিয়ে বা রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে আইনের হাত থেকে বাঁচা যাবে, তাহলে তিনি ভুল করছেন। আজিজুল হোসেন মণ্ডল ওরফে কালোর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, তার বিচার হবেই। আইন নিজের পথে চলবে, কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
পীযূষের আরও দাবি, অতীতে ওয়ার্ড অফিসকে কার্যত তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করা হয়েছিল। বর্তমানে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং পৌর পরিষেবা সচল রাখতে সেখানে যাতায়াত করছেন বিজেপি নেতারা। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অপরাধের বিচার নিশ্চিত। আজিজুলকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।”
রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন একটাই— এ কি শুধুই সৌজন্য, নাকি রাজারহাট-নিউটাউনের রাজনীতিতে আসন্ন কোনও বড় সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত?
