কলকাতার আন্তর্জাতিক যোগ উৎসব শেষে ফেরার পথেই তলিয়ে গেল ‘মা অজন্তা’, অলৌকিক উদ্ধার চালক-কর্মীরা

breakingnews অফবিট দেশ

নিউজপোল ব্যুরো: সুন্দরবনের পথে ফেরার সময় ভয়াবহ জলপথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল নামখানার ঈশ্বরীপুর। কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর ক্যানিং ও গোসাবার দিকে ফিরছিল বোটটি। সেই সময় নামখানার ঈশ্বরীপুর এলাকার কাছে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীতে আচমকাই বিপর্যয় নেমে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ছোট নৌকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে ‘মা অজন্তা’-র গায়ে। ধাক্কার জেরে মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে নদীর জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে লঞ্চটি। আচমকা এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নদীর বুকে। তবে বিপদের মধ্যেও সামনে আসে মানবিকতার এক উজ্জ্বল ছবি। কাছাকাছি থাকা কয়েকটি বোট পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়ে। সময় নষ্ট না করে তারা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে চালক ও কর্মীদের নিরাপদে তুলে আনে। তাদের তৎপরতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সুন্দরবন এলাকা থেকে কলকাতায় এসেছিল ‘মা অজন্তা’। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ফেরার পথেই ঘটে এই দুর্ঘটনা। সৌভাগ্যবশত, সেই সময় নদীর ওই অংশে আরও কয়েকটি বোট উপস্থিত ছিল। দুর্ঘটনার রূপ দেখে তারা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের দ্রুত অ্যাকশনের ফলেই চালক ও কর্মীদের অক্ষত অবস্থায় জল থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়। বড়সড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, এই ঘটনায় সুন্দরবনের জলপথে যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। যদিও এই যাত্রায় অলৌকিকভাবে বড়সড় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, কিন্তু এই ঘটনা প্রশাসনকে এক বড়সড় সতর্কবার্তা দিয়ে গেল। ক্যানিং থেকে নামখানা হয়ে গোসবা—এই দীর্ঘ জলপথে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সরকারের উচিত প্রতিটি বোট ও লঞ্চে লাইফ-জ্যাকেটের বাধ্যতামূলক ব্যবহার এবং নদী ট্রাফিকের ওপর কড়া সিসিটিভি বা রাডার নজরদারি চালানো।