ক্রমশ কমছে দিনের আলো! উদ্ধারকাজে গতি আনতে তারাতলায় অতিরিক্ত আলোর মেগা বন্দোবস্ত, স্পটে মুখ্যমন্ত্রী

breakingnews জেলা রাজনীতি রাজ্য

ক্রমশ কমে আসছে দিনের আলো, আর তার সঙ্গে বাড়ছে সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। তারাতলার ভয়াবহ ধসকাণ্ডে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে রাতভর চলবে উদ্ধার অভিযান। অন্ধকার যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তার জন্য ঘটনাস্থলে বসানো হচ্ছে অতিরিক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোর ব্যবস্থা। প্রশাসন, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী একযোগে চালাচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ২১ জনের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ১৮ জনকে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। তাঁদের মধ্যে ২ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেকের শরীরের বিভিন্ন হাড়ে চোট লেগেছে। কয়েকজনের অভ্যন্তরীণ আঘাতও রয়েছে। আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর একের পর এক অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। হাসপাতালে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের স্ট্রেচারে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যেকোনও পরিস্থিতির জন্য অপারেশন থিয়েটারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসার সুবিধার জন্য হাসপাতাল একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ডে সার্জারি, অর্থোপেডিক, নিউরো মেডিসিন, নিউরো সার্জারি, প্লাস্টিক সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রয়েছেন। প্রত্যেক রোগীর অবস্থা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে তারাতলা থেকে এসএসকেএম পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে কলকাতা পুলিশ। হাসপাতাল চত্বরে যাতে অতিরিক্ত ভিড় না হয়, সেই কারণেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার কারণ কী, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।