নিউজপোল ব্যুরো: ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারাতলার ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতগুলো প্রাণ এখনও জীবন্ত আছে, তা নিয়ে ছড়াচ্ছে চরম রহস্য ও আতঙ্ক! মুহূর্তের অসাবধানতায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া ছাদের নিচে চাপা পড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে লাশের সংখ্যা। বুধবার যেখানে প্রশাসনের তরফ থেকে ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সেই সংখ্যাটা একধাক্কায় বেড়ে দাঁড়াল ৮-এ! ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি ইট-পাথর সরাতেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক নিথর দেহ, যা দেখে শিউরে উঠছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এখনো পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৩১ জনের মধ্যে আটজনই চিরতরে হারিয়ে গেছেন, কিন্তু বাকিদের ভাগ্যে কী আছে, তা এখনও এক বিরাট কুয়াশার আবরণে ঢাকা!
অতল গভীরে আটকে থাকা মানুষদের শেষ ভরসা হয়ে উঠেছে তাঁদেরপকেটে থাকা সচল মোবাইল ফোনগুলো! হ্যাঁ, অন্ধকারের নিচে চাপা পড়েও সচল রয়েছে বেশ কিছু মোবাইল, আর সেই সচল মোবাইলের অদৃশ্য টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই মরিয়া হয়ে প্রাণের সন্ধান চালাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। মৃত্যুর এই গোলকধাঁধায় শুধু মোবাইল টাওয়ারই নয়, নিয়ে আসা হয়েছে ভারতীয় সেনার সেই গোপন ও অত্যাধুনিক বিশেষ রেডার যন্ত্র, যা সাধারণত দুর্গম পাহাড়ে তুষারধসের নিচে চাপা পড়া জ্যান্ত মানুষকে খুঁজে বের করতে ব্যবহৃত হয়। সাথে রয়েছে প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগের দল, যারা মাটির নিচের সামান্যতম স্পন্দন বা গন্ধ শুঁকে নিখোঁজদের হন্যে হয়ে খুঁজছে। বৃহস্পতিবার সকালেও এমন রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে আরও ৫ জনকে টেনে বের করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই মৃত্যুর মিছিল কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো বড়সড় অপরাধের জাল? তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই যে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হুসেন, লোহার কাঠামোর কারিগর কমল সামন্ত, জমির লিজগ্রহীতা শম্ভুনাথ বেহেরা এবং শ্রমিক সরবরাহকারী কুখ্যাত ঠিকাদার দিবাকর ভান্ডারি। সবচেয়ে বড় চমক হলো কেএমসি-র (KMC) স্যাংশন প্ল্যান পাস করানোর নেপথ্যে থাকা দালাল আব্দুল হামিদ গ্রেফতার! পুরসভার নকশা জাল করে কোন কোটি টাকার খেলা চলছিল এই গোডাউনের আড়ালে? তদন্তের জাল যত ছড়াচ্ছে, রহস্যের গভীরতা ততই বাড়ছে।
