নিউজপোল ব্যুরো: তারাতলার ভয়াবহ ধসকাণ্ডের পর এবার বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারাতলা বিপর্যয়ে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া যাঁরা আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রাণের মূল্য কখনও টাকায় মাপা যায় না। তবে শুধু ক্ষতিপূরণের ঘোষণাতেই থেমে থাকেননি তিনি। তারাতলার ঘটনার পর শহরজুড়ে নির্মাণকাজ নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের জন্য কলকাতা ও সংলগ্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেএমসি এলাকা ছাড়াও রাজারহাট, মহেশতলা, বজবজ, সোনারপুর, পূজালি-সহ একাধিক জায়গায় এই নির্দেশ কার্যকর হবে। সরকারের বক্তব্য, যতক্ষণ না সমস্ত নকশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নথির পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ নতুন করে কোনও কাজ এগোবে না। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিশেষ কিছু প্রকল্প এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও একবার উঠে আসে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ঘটনায় কোনও ব্যক্তিকে রেয়াত করা হবে না। তদন্তে যার নাম উঠে আসবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরনো অনুমোদন প্রক্রিয়া, নির্মাণের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের নকশা ও অনুমোদনের ফাইল পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তদন্তকারীরা খুঁজে দেখছেন কোথাও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তা মান বজায় রাখা হয়েছিল কি না।
তারাতলার এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবারের জীবনই বদলে দেয়নি, প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে গোটা নির্মাণ ব্যবস্থাকেও। আগামী চার সপ্তাহে অডিট ও তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
