নিউজপোল ব্যুরো: ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ঠিক পূর্বমুহূর্তে রাজ্যে ফের বড়সড় জঙ্গি ও গুপ্তচর চক্রের পর্দাফাঁস করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। এ বার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে পাকিস্তানের হয়ে চক্রান্ত ও গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো ৩ জন সন্দেহভাজনকে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে— ভারতীয় মোবাইল সিম কার্ড বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’ (ISI)-এর হাতে পাচার করা এবং এ দেশে জাল নোটের আন্তর্জাতিক কারবার চালানো। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগেই সীমান্ত পারের এই চক্রান্ত ফাঁস হওয়ায় হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে।
গত এক মাসের মধ্যে রাজ্যে একের পর এক জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতারির ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই সাহেবগঞ্জের ধৃতদের সঙ্গে কিছুদিন আগেই এসটিএফের জালে ধরা পড়া সন্দেহভাজন পাকিস্তানি জঙ্গি রানা রউফের সরাসরি কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, ভুয়া নথি দিয়ে ভোটার ও অন্যান্য পরিচয়পত্র বানিয়ে তিলজলা-তপসিয়া সহ গোটা রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বা ‘রেকি’ চালাচ্ছিল রানা। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া গোপন নোটবুকটি এখন তদন্তকারীদের হাতে সবচেয়ে বড় ‘তুরুপের তাস’। সেই নোটবুক ও রানাকে জেরার সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ৫ জন এমন ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে যাদের সাথে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। রানাকে খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ (NIA)-এর কড়া জেরার মুখে পড়তে হতে পারে। অন্য দিকে, চলতি মাসের গোড়াতেই বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি হামিম মণ্ডল, তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং সহযোগী আদিত্য সিংকে শুক্রবার বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে রানা রউফকে ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ভোটার ও আধার কার্ড তৈরি করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছিল সে। কলকাতার তপসিয়া-সহ কয়েকটি এলাকায় তার গতিবিধি নিয়েও তদন্ত হয়েছে। রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের জেরার পাশাপাশি এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরেও রয়েছে এই মামলা। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনায় কোনও বড় চক্র সক্রিয় কি না, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কোচবিহার থেকে ধৃত তিনজনের মোবাইল, যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে তদন্ত কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা ISI-যোগের অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
