নিউস্পোল ব্যুরো: স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তির দিনে লালকেল্লা থেকে দেশবাসীর সামনে একাধিক বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা, যুবসমাজ, শক্তি, প্রযুক্তি এবং দেশের শিল্পক্ষেত্র—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই ভবিষ্যতের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এল ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য।
শনিবার সকালে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের শুরুতেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর দেশের আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। মোদীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেল ভারতের শিল্প ও কর্পোরেট ক্ষেত্র। বিশ্বের অন্যতম বড় সংস্থার তালিকা ‘ফরচুন ৫০০’-তে বর্তমানে ভারতীয় সংস্থার উপস্থিতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য স্থির করার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, বিশ্বের সেরা ৫০০ সংস্থার তালিকায় কেন অন্তত ৫০টি ভারতীয় সংস্থা থাকবে না? দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যেই এই বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।
যুবসমাজের জন্য বড় ঘোষণা
দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে সুবিধা দিতে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের সুযোগ তৈরি করার কথা জানান তিনি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে বসেই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন বলে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
যুবসমাজের উপর তাঁর আস্থার কথাও স্পষ্ট করে দেন মোদী। ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী, কৃষক, শ্রমিক এবং দেশের মা-বোনেদের সম্মিলিত শক্তির উপর ভরসা রেখেই ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
শক্তির সপ্তধা’য় উন্নয়নের রূপরেখা
‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। উৎপাদন শিল্প, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতিশক্তি, প্রতিরক্ষা শক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ভারতের সফট পাওয়ার—এই সাত ক্ষেত্রকে দেশের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
এর পাশাপাশি শক্তিক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্যের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী দিনে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আত্মনির্ভরতার উপরও জোর দেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন মেটাতে অন্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে থাকলে চলবে না। নিজের স্বার্থ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে।
যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে জ্বালানি নিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে বিরোধীদেরও নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত প্রস্তুত ছিল এবং দেশের প্রয়োজন মেটানোর মতো ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ছোট স্বপ্ন নয়, বড় লক্ষ্য
লালকেল্লার মঞ্চ থেকে দেশবাসীকে বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান মোদী। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে দেখতে চান তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণে এখন থেকেই বড় সিদ্ধান্ত, বড় প্রতিজ্ঞা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে উন্নয়ন থেকে আত্মনির্ভরতা, যুবসমাজ থেকে পরমাণু শক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরলেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ২০৪৭-এর লক্ষ্য সামনে রেখে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিল্প এবং শক্তিক্ষেত্রে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়াই এখন কেন্দ্রীয় লক্ষ্য।
